শিবপুরে ঐতিহাসিক জনসমাবেশ: ড. রানা চ্যাটার্জীর সমর্থনে শক্তির প্রদর্শন, নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
হাওড়া, ২৫ এপ্রিল :আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শিবপুর বিধানসভা এলাকায় এক বিশাল রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের সাক্ষী থাকল সলকিয়া। পি-৩৫, বেনারস রোডে, আজাদ হিন্দ হিন্দি বিদ্যালয়ের নিকটে অনুষ্ঠিত এই মহাসভা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি গোটা এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে উজ্জীবিত করে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দা, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিপুল উপস্থিতি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, ড. রানা চ্যাটার্জীর পক্ষে মাটির স্তরে সংগঠন কতটা মজবুত হচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান নেতা সুরেশ শর্মা, যিনি তার বক্তব্যে দলীয় ঐক্য ও সংগঠনের শক্তির উপর জোর দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন গোপাল জয়সওয়াল, যার সঞ্চালনায় সভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমতিয়াজ আনসারি, বালি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের স্পোর্টস সেলের সভাপতি, যিনি তার বক্তব্যে যুব সমাজকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ড. চ্যাটার্জীর উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন এমডি নঈম, বদরু দোজা আনসারি, জাভেদ আখতার, এমডি ইমরান এবং মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের শামিমা খান, যারা প্রত্যেকে তাদের বক্তব্যে ড. রানা চ্যাটার্জীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে মহিলা নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ সভাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
এই জনসভার মূল আকর্ষণ ছিলেন প্রধান বক্তা নিলোফার ইনশা। তার জোরালো ও আবেগপূর্ণ বক্তৃতায় উঠে আসে উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং তৃণমূল স্তরের ক্ষমতায়নের বার্তা। তিনি বলেন, “শিবপুরে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং ড. রানা চ্যাটার্জীর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তনভীর বেগ, শিব চন্দ্র খরোয়ার, রাম কুমার এবং ইমতিয়াজ আনসারি। তারা ড. রানা চ্যাটার্জীর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন—কীভাবে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং বর্তমানে বালি বিধায়ক হিসেবে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
এই বিশাল সমাবেশে সম্মানিত সমাজসেবী সুবাশীষ পাল এবং মনোজ কুমার প্রসাদসহ আরও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাদের উপস্থিতি এই সভার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে, শিবপুরের এই মহাসভা শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি ছিল একতা, সমর্থন এবং আত্মবিশ্বাসের এক বড় বার্তা। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের জনসমাগম নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।