উন্নয়নের দাবিতে সরব সন্দেশখালি, বিধায়ক সনৎ সর্দারকে মন্ত্রী করার দাবিতে পথে প্রতিবাদী মহিলারা
বসিরহাট : সন্দেশখালিতে ফের আন্দোলনের মঞ্চে দেখা গেল প্রতিবাদী মহিলাদের। তবে এবার তাদের দাবি প্রশাসনিক উন্নয়ন ও এলাকার পরিকাঠামো ঘিরে। সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দারকে মন্ত্রী করার দাবিতে পথে নামলেন একাধিক মহিলা। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থেই বিধায়ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দু’বছর আগেই সন্দেশখালির নাম উঠে এসেছিল রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয় মহিলাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। জমি দখল, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অভিযোগকে সামনে রেখে রাস্তায় নেমেছিলেন বহু মহিলা। সেই আন্দোলনের জেরে গ্রেফতার হয়েছিল তৎকালীন দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও শিবু হাজরা সহ একাধিক নেতা। সেই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরবর্তী সময়ে সন্দেশখালিতে পরিবর্তনের ডাক তুলে নির্বাচনে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী সনৎ সর্দার।
এবার সেই বিধায়ককে রাজ্যের মন্ত্রী করার দাবিতেই সরব হলেন এলাকার প্রতিবাদী মহিলারা। তাদের দাবি, সন্দেশখালি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম এলাকা। ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই। বহু এলাকায় জরুরি চিকিৎসার জন্য নদীপথে দীর্ঘ সময় পাড়ি দিতে হয়। ভালো হাসপাতালের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্ষার সময় বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিক্ষোভে সামিল মহিলাদের বক্তব্য, এলাকার সমস্যাগুলি বিধায়ক সনৎ সর্দার ভালোভাবেই জানেন। তাই তিনি মন্ত্রী হলে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত উন্নয়নের কাজ এগোবে বলে তাদের বিশ্বাস। বিশেষ করে রাস্তা, সেতু, ফেরিঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও বেশি সরকারি নজর আসবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মহিলাদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নয়, এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করার জন্যই তারা সনৎ সর্দারকে আরও বড় দায়িত্বে দেখতে চান।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, সন্দেশখালির মতো স্পর্শকাতর ও নদীমাতৃক অঞ্চলে উন্নয়নের প্রশ্ন এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই এলাকার একাংশের মানুষ চাইছেন তাদের বিধায়ক সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় পৌঁছান। আন্দোলনকারী মহিলাদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থে এবার সন্দেশখালির কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে রাজ্য রাজনীতির মঞ্চে।