সেতুবন্ধনেই বদলাবে সন্দেশখালি, জয়ের পর উন্নয়নের রূপরেখা দিলেন নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সনৎ সরদার
বসিরহাট : সন্দেশখালির মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীপথ নির্ভর যাতায়াত এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি। এবার সেই সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখেই কাজ শুরু করার বার্তা দিলেন সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সনৎ সরদার। জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্দেশখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “এই জয় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং সন্দেশখালীর বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের জয়।” ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবতার মাটিতেই রাখতে চান নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাই শুরুতেই তিনি জানিয়ে দেন, মানুষের কাছে কোনও অবাস্তব বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চান না। তার কথায়, “আমি যদি বলি সমস্ত কাজ এক্ষুনি হয়ে যাবে, সেটা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যার সমাধান করাই আমার লক্ষ্য।”
সন্দেশখালি মূলত নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এখনও অনেকাংশে নৌপথের উপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে কিংবা দুর্যোগের সময় সেই দুর্ভোগ আরও চরম আকার নেয়।
বহু জায়গায় পর্যাপ্ত সেতু না থাকায় ছাত্রছাত্রী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিদিনই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সনৎ সরদার সেতুবন্ধন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানান, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তিনি বিশেষ আবেদন জানাবেন যাতে সন্দেশখালীর বিভিন্ন প্রান্তকে সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মতে, সেতুবন্ধন সম্পূর্ণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে না, বদলে যাবে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রও। নদী পেরিয়ে যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে এবং জরুরি পরিষেবাও দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রথম পর্যায়ে তিনি সন্দেশখালি ১নং ব্লকের ন্যাজাট-কালিনগর এবং সন্দেশখালি ২নং ব্লকের রামপুর-জেলিয়াখালি অঞ্চলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। তার দাবি, এই দুটি সেতু তৈরি হলে বহু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে। এরপর ধাপে ধাপে সন্দেশখালীর অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলগুলিকেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সন্দেশখালীর মতো ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এলাকায় উন্নয়নের মূল চাবিকাঠিই হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর দাবি ছিল স্থায়ী সেতু নির্মাণ ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। নির্বাচনের পর সনৎ সরদারের এই বক্তব্য সেই দাবিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক স্তরে কত দ্রুত এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায় এবং আদৌ সন্দেশখালির বহু প্রতীক্ষিত সেতুবন্ধনের স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।