বাংলা পেরিয়ে বিদেশেও ‘ঝালমুড়ি’ চর্চা, নেদারল্যান্ডসে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর
রুদ্র বিশ্বাস, বনগাঁ: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে যে ‘ঝালমুড়ি’ একসময় রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। এখন সেই ঝালমুড়ির প্রসঙ্গ এবার পৌঁছে গেল বিদেশের মাটিতেও। নেদারল্যান্ডসের হেগে প্রবাসীদের কাছে ভারতীয় দের বিষয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলার ‘ঝালমুড়ি’ নিয়ে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি হওয়া বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলতেই সভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে থেকে কেউ ‘ঝালমুড়ি’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তা শুনে হেসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ঝালমুড়ি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে”। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়রা।
প্রসঙ্গত, ২৬ এর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে একটি স্থানীয় দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। বিজেপির পক্ষ থেকে সেই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। যদিও তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সেই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছিল।এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়ও মোদীকে আক্রমণ করে বলেছিলেন, ক্যামেরা বসিয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া হয়েছে। পরে তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্তব্য করেন, “ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।” সেই মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে বিজেপির জয়ের উদযাপনেও ঝালমুড়ির বিশেষ উপস্থিতি দেখা গেছে। এমনকি বাংলায় বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও মিষ্টির পাশাপাশি ঝালমুড়ির স্টল রাখা হয়েছিল।
নেদারল্যান্ডসের হেগের সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত বেশি এবং মহিলাদের অংশগ্রহণও অনেক বেশি দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ভারতের স্টার্টআপ বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।নেদারল্যান্ডস সফরে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।