রাইপুরে আইসিডিএস কেন্দ্রে শিশুদের তেতো ছাতু দেওয়ার অভিযোগ, উদাসীন প্রশাসন।
সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া: সুসংহত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্প কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের পুষ্টির জন্য সম্প্রতি রাইপুর সিডিপিও র অফিস থেকে ছাতু বরাদ্দ করা হয় সেই ছাতু অত্যন্ত নিম্নমানের ও তেতো বলে অভিযোগ উপভোক্তাদের। বাচ্চারা এই ছাতু খেতে চাইছে না তারা মুখে নিয়ে তেতো লাগার কারণে ফেলে দিচ্ছে। মায়েরাও সেই ছাতু খেয়ে দেখেছেন তেতো লাগছে। এই অভিযোগ রাইপুর সিডিপিও মিঠুন সরকারের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি বলেন, “ওরকমই লাগবে। যেহেতু ওগুলো ভাজা রয়েছে তাই হয়তো তেতো লাগছে। তাছাড়া এই ছাতুর প্যাকেটে বাদাম, ছোলা ,গম ইত্যাদি রয়েছে সেই কারণে তেতো লাগতে পারে। ছাতু বরাদ্দ কম ওই কম বরাদ্দে কি হরলিক্স খাওয়ানো যাবে বলেও তিনি বলেন “। তিনি আরো বলেন, “ওগুলো ভেজে লাড্ডু করে খাওয়াবার কথা বলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারদের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বলেছি। সুপারভাইজারদের মধ্যে দু একজন বলেন আমরা কয়েকটি সেন্টারে গিয়েছিলাম কোথাও কোথাও তেতো লাগছে বলে অভিযোগ এসেছে আমরা বলেছি যে প্যাকেট গুলো মনে হবে খারাপ সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য প্যাকেট গুলো পরিবেশন করতে”।
স্থানীয় অভিভাবক অভিভাবিকা ও কেন্দ্রের শিক্ষিকা রা বলেন প্রথম দিন যখন বাচ্চাদের খেতে দিয়েছিলাম তেতো লাগার ফলে শিশুরা তা ফেলে দেয়, পরে আমরাও খেয়ে দেখি তেতো লাগছে তারপর বিষয়টি আমাদের সুপারভাইজারদের জানাই কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। ওনারা আবার আমাদের বলেন ওগুলো ভেজে লাড্ডু করে পরিবেশন করতে। কিন্তু আমরা অভিভাবিকাদের অনুরোধে ওই ছাতুগুলো শিশুদের দেওয়া বন্ধ করেছি । অভিভাবিকা সহ শিক্ষিকাররা বলেন ছাতুর প্যাকেটে যে মেনুফ্যাকচার তারিখ ও নাম্বার ছিল সেগুলি কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে।
এতেই সন্দেহ বাড়ছে আমাদের ও অভিভাবিকাদের।
রাইপুর বাজারের ২৫ নম্বর কেন্দ্রের শিক্ষিকা তৃপ্তি ভান্ডারী, বাঁধগোড়া কেন্দ্রের শিক্ষিকা সুমিত্রা মাহাতো সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষিকার সাথে কথা বললে তারা বলেন আমরা শিশুদের পুষ্টির বদলে অপুষ্টি ও খারাপ খাবার খাওয়াতে পারবো না ।কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় আমাদের বহন করতে হবে। আমরাও খেয়ে দেখেছি ছাতু তেতো লাগছে। তাই আমরা বর্তমানে খাওয়ানো বন্ধ করেছি। কিন্তু সিডিপিও র পক্ষ থেকে ওগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
উপভোক্তা শিশু প্রীতম দাস, শ্রেয়া পাল, দেব জিৎ দুলে রা বলে ছাতুগুলো তেতো লাগে আমরা খাই না ফেলে দিই। অভিভাবিকা সোমা কদমা ,পুতুল কদমারা বলেন আমরা ওই নষ্ট হওয়া বা খারাপ ছাতু খাওয়াতে বারণ করেছি, দিদিমণিদের বলে দিয়েছি ওগুলো খাওয়াবেন না। আমরাও খেয়ে দেখেছি তেতো লাগে। তাই যাতে ওই ছাতু না খাওয়ানো হয় তার অনুরোধ জানিয়েছি। সরকার আমাদের শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইছে। শিশুদের পুষ্টিকর খাবারে কেন এই ছেলে খেলা? কে জবাব দেবেন? তাছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ কেন উদাসীন? এ ব্যাপারে রায়পুর বিডিও উদয়নারায়ণ দে এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন এই ঘটনার কথা আপনাদের সংবাদ মাধ্যমের কাছে শুনলাম খোঁজ নিয়ে দেখছি। এলাকাবাসীর দাবি উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক নতুন সরকার।