টুটু বসুর স্মৃতিতে আবেগঘন শোকসভা, বসিরহাটে শ্রদ্ধার্ঘ্য মোহনবাগান সমর্থকদের
বসিরহাট : মোহন বাগানের প্রাক্তন কর্তা স্বপন সাধন বসু, যিনি ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ‘টুটু বসু’ নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন, তার প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার ফুটবল মহলে। সেই শোকের আবহেই বসিরহাটে মোহনবাগান সমর্থকদের উদ্যোগে আয়োজিত হল এক আবেগঘন শোকসভা। সবুজ-মেরুন আবেগে একসূত্রে বাঁধা সমর্থকেরা প্রিয় কর্তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হন বসিরহাট টাউন ক্লাবের হলঘরে।
‘বসিরহাটের হৃদয়ে সবুজ মেরুন’ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বহু প্রবীণ ও নবীন মোহনবাগান সমর্থক। অনুষ্ঠানের শুরুতেই টুটু বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। পরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত সদস্যরা। গোটা হলঘর জুড়ে তখন নেমে আসে এক নীরব আবেগঘন পরিবেশ। ক্লাবের প্রতি টুটু বসুর অবদান, তার নেতৃত্ব, সংগঠক হিসেবে দক্ষতা এবং মোহনবাগানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন বক্তারা। সমর্থকদের বক্তব্যে উঠে আসে, মোহনবাগান শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি এক আবেগ, এক ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্য রক্ষায় টুটু বসুর অবদান আজও সমর্থকদের হৃদয়ে অমলিন। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি যেমন সাফল্যের সাক্ষী ছিলেন, তেমনই সংকটের সময়েও দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
তার প্রয়াণে বাংলা ফুটবল এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারাল বলেও মত প্রকাশ করেন অনেকেই। শোকসভায় উপস্থিত সমর্থকদের একাংশ জানান, টুটু বসু ছিলেন সমর্থকদের অত্যন্ত কাছের মানুষ। মাঠের বাইরেও সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে তার সহজ যোগাযোগ ও আন্তরিক আচরণ তাকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছিল। তাই তার মৃত্যু শুধুমাত্র এক প্রাক্তন কর্তার প্রয়াণ নয়, বরং সবুজ-মেরুন পরিবারের এক অভিভাবককে হারানোর বেদনা। অনুষ্ঠানের শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রার্থনা করা হয় তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায়।
বসিরহাটের মোহনবাগান সমর্থকদের এই উদ্যোগ যেন আরও একবার প্রমাণ করল, ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, তা জড়িয়ে থাকে মানুষ, স্মৃতি এবং আবেগের সঙ্গেও।