বসিরহাটে ঐতিহ্যবাহী কো-অপারেটিভ বিক্রির চক্রান্তের অভিযোগ, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সদস্যদের
বসিরহাট : বসিরহাটের এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ফের বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। বসিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বসিরহাট কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেড বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে সরব হলেন কো-অপারেটিভের সদস্যরা। রবিবার এই অভিযোগকে সামনে রেখে ইন্ডাস্ট্রিয়ালের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার এক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা অলোক সর্দার ওরফে দীপ এবং তার অনুগামী মোজাফফর হোসেন মণ্ডল এই ঐতিহাসিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের জমি ও সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু জমি বিক্রির পরিকল্পনাই নয়, ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ভিতরে থাকা একাধিক মূল্যবান যন্ত্রপাতিও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বসিরহাট কো-অপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়ন লিমিটেড একসময় রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গজ ব্যান্ডেজ সরবরাহ করা হতো। পাশাপাশি উচ্চমানের শাড়ি, ধুতি, গামছা, বিছানার চাদর সহ একাধিক বস্ত্রজাত পণ্য উৎপাদন হতো।
স্থানীয়দের মতে, বহু পরিবারের রুজি-রোজগারের অন্যতম ভরসা ছিল এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল। কো-অপারেটিভের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে সদস্যরা এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রতিবারই আন্দোলন দমাতে হুমকি, ভয় দেখানো এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতা ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কো-অপারেটিভের সম্পত্তি ও শিল্প ঐতিহ্য রক্ষা করতে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যারা এই দুর্নীতি ও সম্পত্তি বিক্রির চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বহুদিন বন্ধ হয়ে থাকা এই শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার দাবিতে সরব হন সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বসিরহাটের মতো এলাকায় যেখানে শিল্পের সুযোগ ক্রমশ কমছে, সেখানে একটি ঐতিহ্যবাহী কো-অপারেটিভকে ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাদের মতে, সঠিক উদ্যোগ নিলে এই শিল্প প্রতিষ্ঠান আবারও চালু করা সম্ভব এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর সদস্য ও স্থানীয়দের।