এক ধাক্কায় বাড়ল ভোজ্য তেলের দাম, চাপে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেট
রুদ্র বিশ্বাস, বনগাঁ: একসময় খুব কম খরচেই সংসারের বাজার সেরে ফেলা যেত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেলের পর এবার বড় একটা ধাক্কা এল ভোজ্য তেলের বাজারে। গত এক সপ্তাহে রান্নার তেলের দাম লিটারপিছু ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে আরও চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসারের বাজেট।এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ফলে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ও সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। তার জন্যই ভোজ্য তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে যে, উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধিত তেলের দাম লিটারপিছু প্রায় ২০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানি পেস্তার দামও কেজিপিছু প্রায় ১০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যদি এই রকম থাকে তাহলে আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সর্ষের তেলের দাম প্রতি লিটারপিছু ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। আগে যেটা ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। অন্যদিকে পরিশোধিত তেলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় এখন ১৫০ টাকা হয়েছে। তিলের তেলের দামও বেড়ে লিটারপিছু প্রায় ১৮০ টাকায় পৌঁছেগেছে।
একসময় ৫০০ টাকায় সংসারের অনেক বাজার হয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। প্রতিদিনের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। এর মধ্যেই তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে ঘিরে কালোবাজারি ও অতিরিক্ত মজুতদারির আশঙ্কাও বাড়ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারের উপর নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কেউ কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে বা মজুতদারি করলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।