তৃণমূল দলের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন সুজাতা মন্ডল।
সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : আজ বুধবার বাঁকুড়া জেলা শাসকের কাছে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল নেত্রী দলীয় সমস্ত পথ থেকে পদত্যাগ করে পদত্যাগ পত্র জমা দিলেন। পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তিনি বলেন আজ আমি মুক্ত, বিবেকের দংশন থেকে আজ আমি মুক্ত হলাম।এটা আমার আজকের সিদ্ধান্ত নয় অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম দলটা করবো না কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা করে উঠতে পারিনি আসলে পারিবারিক কারণ তো সকলেরই থাকে।
অভয়ার ঘটনার পর যখন জেলা রাজ্য দেশ তথা বিশ্বজুড়ে বিচারের জন্য গণ আন্দোলন হয়েছিল তখন থেকেই আমি এই দলের কাজকর্মে বীতশ্রদ্ধ। বিবেকের দংশনে আমি ভুগছিলাম। অনৈতিক কাজকর্ম সম্পর্কে আমি বারবার সচেতন করেছিলাম দলীয় কর্মীদের ও নেতৃত্বকে তারা সে কথা শুনেন নি। তাই দলটা ছাড়ার ইচ্ছে ছিলই। বিবেকের দংশনে আমি আজ জেলা শাসকের কাছে এসে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে তৃণমূল দল ছাড়লাম ও বাঁকুড়া জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষের পদও ত্যাগ করলাম। মনে হয় আমিই প্রথম তৃণমূল দল থেকে মহিলা হিসেবে দল ত্যাগ করলাম ।আমার সমস্ত নিরাপত্তা রক্ষীদের মুক্তি দিলাম সমস্ত পদ ছাড়লাম।
আমি একজন সনাতনী হিন্দু নারী আমার কাছে জয় শ্রীরাম ভগবানের সেবার নাম। ভগবানকে সেবা করতে পারেন সবাই। এখানে কোন রাজনৈতিক দলের প্রশ্ন নয়। জয় শ্রী রাম সবাই বলতে পারেন। আমি গত বছর মহাকুম্ভ গিয়েছিলাম এবং সেখানে জয় শ্রী রাম ধ্বনি দিয়েছিলাম বিভিন্ন চ্যানেলে তা সম্প্রচারিত হয়েছিল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে কোন রাজনৈতিক দলে যাচ্ছি না তবে এলাকার সামগ্রীক উন্নয়নে মানুষের প্রয়োজনে যদি আমাকে কেউ ডাকেন আমি সব সময় তাদের সাথেও পাশে আছি। বিশেষ করে আমাকে যারা জিতিয়েছিলেন সেই এলাকার মানুষেরা যদি ডাকেন আমি সবসময় সাড়া দেবো এবং সহযোগিতা করব ।আমাকে আগের সেই সুজাতা হিসেবেই সবাই পাবেন।
একজন বঙ্গ নারী ও সনাতনী হিন্দু নারী হিসেবে আমাকে পাওয়া যাবে। রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারা রাজ্যের উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিক প্রয়োজন হলে আমিও উন্নয়নের সাথে থাকব।