ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের অজান্তেই লক্ষাধিক টাকার ঋণের বোঝা! ব্যাঙ্কের দরজায় তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ গ্রাহকদের বীরভূমের ময়ূরেশ্বর
সেখ রিয়াজউদ্দিন, বীরভূম : ভুতুড়ে বিল শোনা যায় কিন্তু ভুতুড়ে ঋণ? এমন এক ঘটনায় ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা হতভম্ব। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর ব্লকের নান্দুলিয়া গ্রামে। এদিন চাঞ্চল্যকর ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে ব্যাঙ্কের সামনে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ,ওয়েস্ট বেঙ্গল গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ষাটপলসা গ্রামের প্রায় ৩০ জন গ্রাহকের অজান্তেই তাদের প্রত্যেকের নামে প্রায় লক্ষ টাকা করে ঋণ তোলা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ব্যাংকের গেটে তালা ঝুলিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহক সহ গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮-১৯ সাল নাগাদ গ্রামের কিছু ব্যক্তি সরকারি আবাস যোজনা ও শৌচালয় পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু গ্রামবাসীর কাছ থেকে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সেদিন সরল বিশ্বাসে গ্রামের মানুষ সেই সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি গ্রাহকদের বাড়িতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ পরিশোধ করার নোটিশ পাঠাতেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ঋণ পরিশোধ করার জন্য নোটিশ পাঠানো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের নামে ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লক্ষ, ৩ লক্ষ এমনকি ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের বোঝা দেখাচ্ছে। অথচ সেই ঋণের কোনো অর্থ তাঁরা পাননি এমনকি উক্ত বিষয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
গ্রামবাসীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা এর আগেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেসময় তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং সন্তোষজনক কোনো উত্তর না দিয়েই ব্যাংক থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার জোটবদ্ধ হয়ে ব্যাংকে গিয়ে ফের অশালীন আচরণের মুখে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকেরা। এরপর ব্যাংকের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, গ্রাহকের স্বাক্ষর, নথির যথাযথ যাচাই কিংবা সরাসরি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এত বিপুল অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করা হল? এই ঘটনায় ব্যাংকের কোনো কর্মী বা আধিকারিকের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক গ্রামবাসীরা অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, “আমরা কোনো ঋণ নিইনি। অথচ আমাদের নামেই ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এবং যাদের মদতে এই ঘটনা ঘটেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে এই অবৈধ ঋণ বাতিল করার দাবিও জানানো হয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বহু সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের ব্যাংক সংক্রান্ত নথি ও অ্যাকাউন্ট নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।