‘নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অসীম, তবে তা এক্তিয়ার বহির্ভূত নয়’৷ বদলী মামলায় আইনজীবী কল্যাণ
মোল্লা জসিমউদ্দিন : বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আধিকারিক বদলির মামলায় নিজেদের অবস্থানে স্থির রইল নির্বাচন কমিশন। ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার যুক্ত থাকলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।’আইএস আইপিএস অন্য রাজ্যে বদলি মামলায় উত্তপ্ত হল হাইকোর্ট চত্বর।এইন মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার।
হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ সওয়াল জবাব।নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন , -‘নির্বাচন ঘোষণা থেকে ফলাফল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন প্রভূত ক্ষমতা ভোগ করে। কমিশন রাজ্য এবং কেন্দ্রের ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করা যায় সেদিকে তাকিয়ে। সংবিধান প্রণেতা বাবা সাহেব আম্বেদকরও এটার উপর জোর দিয়েছিলেন’।নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সংযোগ সাধন করতে পারে যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। পক্ষপাতহীন নির্বাচনের জন্য কমিশন কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের বদলি করতে পারে।এর প্রেক্ষিতে তিনি বিভিন্ন হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে রায় উল্লেখ করে আদালতে পেশ করেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী। নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতে পারেন।
কিন্তু সেগুলো মেনে চলা না চলা কমিশনের উপর নির্ভর করে।ওই আইনজীবী দীর্ঘ সওয়াল জবাবে বলেন, -‘নির্বাচনী পরিস্থিতিতে রিটার্নিং অফিসার ও সহ রিটার্নিং অফিসাররা সবাই বদলি হয়েই কাজে আসে। কমিশনের ক্ষমতা আছে যেকোনও আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার। মামলাকারীর আদৌ ক্ষমতা আছে? ‘ আবেদনকারী অর্ক কুমার নাগের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, -‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে খালি নির্বাচন কমিশন ছাড়া?’ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে বলেন, -‘ আইনসভা যাদের নিয়োগ করেছে তাদেরকে মান্য করাও কমিশনের কাজ। কমিশনকে সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অসীম কিন্তু তা আইনের বাইরে নয়। এক্তিয়ার বর্হিভুত নয়’।রাজ্যে কি মুখ্যমন্ত্রী নেই? আগামী ৬ মে পর্যন্ত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব রাজ্যে রয়েছেন। রাজ্যে সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ কোন রকম ঘটনা ঘটলে তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রীরা।
কিন্তু আধিকারিকদের যদি এইভাবে স্থানান্তর করা হয় রাজ্যে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার কার? সাধারণ মানুষ তো মন্ত্রীদের কাছেই জবাবদিহি চাইবে। নির্বাচন কমিশন তো তার জবাব দেবে না। তামিলনাড়ু সরকার এসে তো জবাবদিহি করবে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের উন্নয়নের মেশিনারি যদি সড়িয়ে নেওয়া হয় তাহলে কাজ হবে কি করে? প্রতিদিন রিটার্নিং অফিসারদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। রাজ্যের সাথে আলোচনা না করেই ৭০ জন রিটার্নিং অফিসার স্থানান্তর করা হয়েছে।আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।