স্ত্রী হাতেই গার্হস্থ্য হিংসার শিকার স্বামী! আদালতে জামিন পেল স্বামী, স্ত্রী অভিযোগ খারিজ
কোলকাতা : গার্হস্থ্য জীবনে হিংসার শিকার নারী, নারী নির্যাতন, শ্বশুর-শাশুড়ি-ননদের নির্যাতন প্রায়ই ঘটে আমাদের সমাজে, আদালতে বহু কেস রয়েছে কিন্তু গার্হস্থ্য জীবনে হিংসার শিকার স্বামী ! স্ত্রী হাতেই গার্হস্থ্য হিংসার শিকার স্বামী!
হ্যাঁ এমটাই ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিওরের বাসিন্দা শুভম শর্মার সাথে। নিজের স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে কাঠগরায় উঠতে হয়েছিল তাকে। শুধু খুনের চেষ্টাই নয়, ভুমিষ্ট হওয়ার আগে নিজের হবু সন্তানকে মারার অভিযোগও উঠেছিল শুভমের বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্ত্রী অভিযোগ করে দীর্ঘদিন ‘গার্হস্থ হিংসা’ চালাতেন স্বামী শুভম শর্মা। কলকাতা নেতাজি নগর থানায় স্ত্রী প্রগতি গঙ্গোপাধ্যায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী শুভম শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে নেতাজি নগর থানার পুলিশ। এর ফলে পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী শুভমকে গ্রেফতার করে পুলিশ, শ্রীঘরে স্বামী।
জানা যায় যে, বিবাহ সম্পর্কিত একটি সাইটে ৭ বছরের পরিচয়, প্রেম ও তারপর পরিনয় হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে হয় গোয়ালিওরের শুভম শর্মার সঙ্গে কলকাতার নেতাজি নগরের প্রগতির গঙ্গোপাধ্যায়ের। বিয়ের পর থেকে শুভম শর্মা বেঙ্গালুরুতে কর্মরত থাকায় দুজনেই এক সঙ্গে সেখানে বসবাস করতেন। যদিও ঐবছরের নভেম্বর মাসে কলকাতায় নেতাজি নগরে বাপের বাড়িতে ফিরে আসে স্ত্রী প্রগতি স্বামীর বিরুদ্ধে আনে একাধিক অভিযোগ সন্ত্বানসম্ভাবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা, গর্ভস্ত ভ্রণ নষ্ট করে দেওয়া এবং গার্হস্থ হিংসা সহ গুরুতর একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী শুভম শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, বিচারাধীন বন্দী থাকা অবস্থায় জামিন চেয়ে আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন শুভম শর্মা । মামলার শুনানিতেই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা। শুভম- নিজেই তাঁর স্ত্রীর হাতে গার্হস্থ হিংসার শিকার ! দিনের পর দিন শুধু মানসিক হেনস্থা করেই থেমে থাকেননি স্ত্রী। সেই সঙ্গে চলত, শারিরিক অত্যাচারও! কোমরে পড়ার বেল্ট দিয়েও শুভমকে মারা হত বলে আদালতে তথ্য-প্রমাণ পেশ করেন শুভম শর্মার আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী। ভিডিও ফুটেজ সহ নথি পেশ করে আদালতে। রাজেশ ক্ষেত্রীর দাবি করেন, “তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। তিনি যে ভ্রুণ নষ্ট করেছেন তার প্রমাণ দিতে পারেননি অভিযোগকারিণী।” আইনজীবী রাজেশ শর্মা দাবি, “শুধুমাত্র ডিউটি আওয়ারের পরে স্বামী শুভম বাড়িতে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করায় বিপাকে পড়তে হয় তাঁকে। সেই থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। যা এক সময় বড়ো আকার নেয়।”
যদিও আদালতে অভিযোগকারিণী স্ত্রী প্রগতির আইনজীবীরা দাবি করেন, “শুভম-ই জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করিয়েছেন। এরজন্য তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। ” আদালতে দাবি করেন প্রগতির আইনজীবী, প্রগতিকে অত্যাচার করে নেতাজি নগর আসতে বাধ্য করা হয় বলেও জানান।”
সন্ত্বানসম্ভাবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা, গর্ভস্ত ভ্রণ নষ্ট করে দেওয়া এবং গার্হস্থ হিংসা সহ গুরুতর একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠা স্বামী বিরুদ্ধে, সেই সমস্ত অভিযোগ খারিজ হয়ে গেল আদালতে। প্রমান হয়ে গেল দোষী স্বামী নন, অভিযোগ তুলেছিলেন স্ত্রী প্রগতি, তিনিই নিজে আসল দোষী। ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং কেস ডায়েরির ভিত্তিতে আলিপুর দায়রা আদালতের বিচারক বিশ্বরূপ বন্দোপাধ্যায় ৫ হাজার টাকার দুই জামিনদার শর্তে ধৃত স্বামী শুভম শর্মাকে জামিন দিয়েছেন।