গন্ধেশ্বরী পুজোয় মাতলো সিমলাপালের গোট কানালী গ্রাম
সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : জঙ্গলমহলের সিমলাপাল ব্লকের লক্ষীসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোট কানালি গ্রামে শতবর্ষ প্রাচীন গন্ধেশ্বরী পূজায় মাতলে গন্ধবনিক সম্প্রদায় ও দত্ত পরিবার। এ বছর তাদের এই গন্ধেশ্বরী পূজা ১১৪ তম বর্ষে পদার্পণ করল বলে দত্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সঞ্জয় দত্ত আমাদের জানালেন। তিনি বলেন, “বাপ ঠাকুরদার কাছ থেকে শুনেছি ১৯১২ সালে তালপাতার কুটীরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। তারপর থেকেই নিয়মিত ভাবে এই পুজো হয়ে আসছে।” এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি ধুমধামের সঙ্গে পুজো শুরু হয়েছে।
মূলত গ্রামের গন্ধ বণিক সমাজ ও চৌদ্দটি দত্ত পরিবার এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা । সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে গোটকানালি সুকান্ত সংঘ।ধর্মীয় আচার নয় গন্ধবণিক ও দত্ত পরিবারের ঐতিহ্যের প্রতীক এই গন্ধেশ্বরী পুজো। বিগত দিনের তুলনায় এবারে পূজোর আকর্ষণ বেড়েছে অনুষ্ঠানও বেড়েছে তিন দিন ধরে চলে নানান সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও একদিন হরিনাম সংকীর্তন।
গোট কানালী গ্রামে গন্ধেশ্বরী পূজো কে ঘিরে পাশাপাশি মইধরা, জড়িশা সহ ১০-১২টি গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি গ্রাম গুলো থেকে বহু মানুষ পুজো দেখতে মন্ডপে আসেন। অন্যদিকে সারেঙ্গা ব্লকের নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনডিহা গ্রামের দত্তবণিক পরিবারের গন্ধেশ্বরী পুজো এ বছর ২১ তম বর্ষে পদার্পণ করল। এখানেও তিন দিন ধরে চলে পুজো।
পুজোতে গ্রামের মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন যে সমস্ত কর্মসূত্রে পরিবার বাইরে থাকেন তারাও এই পুজোর তিনদিন গ্রামে এসে উপস্থিত হন এবং পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেন।গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন দত্ত বলেন আমাদের গ্রামের গন্ধেশ্বরী পুজো আজ থেকে ২১ বছর আগে শুরু হয়েছিল তিন দিনের পূজোকে কেন্দ্র করে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি মৌকুড়া, জামিরা পাড়া,নতুনডিহি ,জামবনী, সারেশকোল, পাঞ্চুড় গ্রামের মানুষজন এই গ্রামের গন্ধেশ্বরী পুজোয় উপস্থিত হন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সঞ্জয় দত্ত বলেন, “আমাদের দত্ত পরিবারের একটি বড় পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের থেকেই আমাদের পুজোর খরচ বহন করা হয়। তাছাড়াও গ্রামবাসীরা বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন।”