‘স্যার’ ট্রাইবুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম
মোল্লা জসিমউদ্দিন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ‘স্যার’ -এর আপিলেট ট্রাইব্যুনাল থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। সুপ্রিম কোর্টে পদত্যাগপত্র পাঠালেন তিনি।জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ তথ্যগত অসঙ্গতির বিবেচনা এবং নিষ্পত্তির দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টকে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।গত ৫ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের কাজ করেছেন তিনি। মোট ১৭৭৭ জন ভোটারের নিষ্পত্তি করেছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার পর বিচারপতি শিবজ্ঞানম অবসর গ্রহণ করেছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সুপারিশক্রমে এবং গত ২০ মার্চ নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আপিল ট্রাইব্যুনালে নিযুক্ত ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতির তালিকায় তিনিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জানা গিয়েছে, বিচারপতি শিবজ্ঞানম বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পালের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।সংবাদ মাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হলে বিচারপতি শিবজ্ঞানম বলেন – “ব্যক্তিগত কারণে আমি পদত্যাগ করেছি।”নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোট ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারের নাম যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। ৭০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের মাধ্যমে যাচাই-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ভোটার তালিকা থেকে ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়।
বাংলায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টির (স্যার ) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানিকালে, গত ১৩ এপ্রিল আদালত উল্লেখ করে যে-তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা সংক্রান্ত বিষয়ে ৩৪ লক্ষেরও বেশি আপিল জমা পড়েছে।পরবর্তীতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, বাংলায় ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের ঠিক দুদিন আগে পর্যন্ত-অর্থাৎ প্রথম দফার ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত-ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যেসব আপিল অনুমোদিত হবে, সেইসব ভোটারের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে এবং তাঁদের ভোটদানের অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এ ধরনের অনুমোদিত আপিলের সংখ্যা ছিল ২,০০০-এরও কম। যাচাই-প্রক্রিয়ার সময় তালিকা থেকে বাদ পড়া অবশিষ্ট ২৭.১৬ লক্ষ ভোটার এবার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।সর্বশেষ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলে এই বিষয়টি প্রকট ঘটে।