“তৃণমূলের সন্ত্রাসের ভয়েই সংখ্যালঘুরা বিজেপিতে ভোট দিতে পারেননি, তবে সময় বদলেছে” বললেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য
বসিরহাট : বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই আগামী পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিল বিজেপি। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য দাবি করেছেন, আসন্ন পৌর ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত শূন্য হয়ে যাবে। তার কথায়, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলই আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাদুড়িয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “বসিরহাটে বিজেপি দুটি আসনে জয় পেলেও বাকি একাধিক কেন্দ্রেও উল্লেখযোগ্য লড়াই হয়েছে।” বিশেষ করে বসিরহাট উত্তর, মিনাখাঁ এবং বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাকে তিনি রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেন। তার মতে, এই ফল প্রমাণ করছে যে এলাকায় বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা তৈরি হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সেই সন্ত্রাসের আবহের মধ্যেই ভোট হয়েছে বলেও দাবি তার। সুকল্যাণের বক্তব্য, বহু সাধারণ মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একাংশও বিজেপিকে সমর্থন করতে চাইলেও ভয় ও চাপের কারণে তা প্রকাশ্যে করতে পারেননি। তার দাবি, তৃণমূলের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপের কারণে সংখ্যালঘু এলাকায় বহু মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
তবে আগামী পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে বলেই আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব। সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরে মানুষের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে মানুষ আরও সংগঠিতভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন এবং বসিরহাট থেকে তৃণমূলকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।”
অন্যদিকে, অন্য রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সুকল্যাণ বলেন, “অতীতে দেখা গিয়েছে বাম আমলে যারা সন্ত্রাসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের একাংশ পরবর্তীকালে তৃণমূলে গিয়ে নেতৃত্বের আসনে বসেছেন। ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দলবদল করে আসা নেতাদের বিজেপি এখনই দলে নিতে আগ্রহী নয়।” শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মেনেই আপাতত নতুনভাবে কাউকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপির জেলা সভাপতি। তার দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ নীরবে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তারা কোনও ব্যক্তিগত সুবিধা বা পদের দাবি-দাওয়া করছেন না, বরং রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তাই দিচ্ছেন। সুকল্যাণের কথায়, “ওরা শুধু বলছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর বসিরহাটে বিজেপি এখন সংগঠন বিস্তার এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমতকে কাজে লাগিয়ে আগামী পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড় লড়াইয়ের রণকৌশল তৈরি করছে গেরুয়া শিবির। বসিরহাটের রাজনীতিতে তাই এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল পরবর্তী নির্বাচনের উত্তাপ।