“গেরুয়া ঝড়ে বদলের রায়: ২০২৬-এ তৃণমূলের পতন, বিজেপির ঐতিহাসিক উত্থান”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে তছনছ করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের সাজানো রাজ্য। ১৭ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই নিশ্চিত হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়। এই দৃশ্য শুধু একটা আসনের ফল নয়, বরং গোটা নির্বাচনের বদলের ছবি সামনে আসে। যেখানে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাধিন নেতৃত্বকে হারিয়ে নতুন শক্তির উদয় হয় ।
২০২৬ সালের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা তৈরি করল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির জয়।২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেল ২০৬ টি আসন এবং তৃণমূল কংগ্রেস পেল ৮১ টি আসন ও অন্যান্য দলেরা পেল মোট ৬টি আসন। আমরা আগেই জেনেছি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে, ১টি আসন অর্থাৎ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার ভোট গ্রহণ বিশেষ ত্রুটি থাকার কারণে ফিরে আবার ভোট গ্রহণ হবে ২১ মে এবং ভোট গণনা হবে ২৪ শে মে। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম হল। এই বাস্তবতায় ভোটারদের স্পষ্টবার্তা, তারা পরিবর্তন চায়, তারা নারী সুরক্ষা চায়, তারা যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ গড়ার কর্মসংস্থান চায়।
সারাদিনের ফলাফলে স্পষ্ট হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, তিনি সমাজের মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি বার্তা দিলেন, ” বিজেপি ১০০ টা সিট লুট করেছে” । তার এই মন্তব্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত থাকলেও তিনি গণতান্ত্রিক রায়কে সরাসরি অস্বীকার করেননি।
অন্যদিকে, দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরের উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বাঙালি ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় ধুতি পাঞ্জাবি পড়ে প্রস্তুত হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সন্ধ্যার বৈঠকে বললেন, ” এটা গণতন্ত্রের জয় – পরাজয় স্বাভাবিক । এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়।” তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গে বললেন, “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এবার বদলা নয় বদল হবে”। এই মন্তব্যে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয় বরং ভবিষ্যতের রাজনীতির একটি দিক নির্দেশ হিসেবেও সামনে এসেছে।