মোল্লা জসিমউদ্দিন, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল -'এসআইআরে নাম বাদ পড়লেও নাগরিকত্ব খারিজ নয়'। রেশন , আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বাদ পড়া বাসিন্দাদের। ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট তলব দেশের সর্বোচ্চ আদালতের।ট্রাইব্যুনালে কত মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে? বাদ যাওয়া কতজনের নাম নতুন করে জুড়েছে তালিকায়? মঙ্গলবার এনিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট ।
এদিন শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, -'এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব খারিজ নয়'।'এরফলে বাদ যাওয়া বাসিন্দাদের সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা যায় না', পর্যবেক্ষণ আদালতের।বাংলায় এসআইআরে বাদ গিয়েছে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম। যদিও তাঁদের অধিকাংশেরই দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এরাজ্যে থাকছেন তাঁরা। রয়েছে বৈধ নথিও। এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় তাঁদের মনে জাঁকিয়ে বসে দেশছাড়া হওয়ার আতঙ্ক।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনালগঠন করা হয়। যাদের নাম এসআইআরের প্রাথমিক পর্বে বাদ চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে পারেন এই ট্রাইব্যুনালে। নথি সব ঠিক থাকলে তাঁদের নাম ফের জুড়ে যাবে তালিকায়। ট্রাইব্যুনালে কম-বেশি ৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এদিন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং আবেদন নিষ্পত্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় কমিশনকে হলফনামা দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে কতগুলি আবেদন এখনও বিচারাধীন, কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কী ধরনের প্রতিকার চাওয়া হয়েছিল।
কারণ, বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন এবং নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে করা আবেদনেপ হিসেব আলাদা। এই শুনানিতেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায় এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিকত্ব খারিজ নয়। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা যায় না। উল্লেখ্য, এসআইআরে বাদ যাওয়া মতুয়াদের একটা বড় অংশ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন বলেই খবর। কারণ, তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। তবে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। কিন্তু যতক্ষণ না ট্রাইব্যুনালে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে বিদেশি তকমা দেওয়া যায় না।
ফলে প্রকল্প বন্ধ করাও যায় না।এদিন শুনানিতে সাংসদ ইশা খান চৌধুরির করা আরটিআইএর তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৮ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার জন্য। বিপরীতে প্রায় ৩১ লক্ষ আবেদন রয়েছে নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে। শুনানিতে মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ৩১ টি বিধানসভা কেন্দ্রে যে সংখ্যক ভোটে প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন, তার থেকেও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
তার অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না? তা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চায়, ওই ৩১ টি বিধানসভা কেন্দ্রের কতগুলিতে ইতিমধ্যেই ইলেকশন পিটিশন দায়ের হয়েছে। তবে বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেয়ে তাদের কাছে এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অ্যাডজুডিকেশনের গতি।