মোল্লা জসিমউদ্দিন, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সার্বিক রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সব মামলাতেই তৃণমূল সাংসদকে রক্ষাকবচ দেওয়ার বিষয়ে নারাজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার অভিষেকের আইনজীবী কপিল সিব্বল হাইকোর্টে আর্জি জানান, -'প্রতিদিন এফআইআর দায়ের হচ্ছে। আরও নতুন তিনটে এফআইআর দায়ের হয়েছে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে।তাই সব মামলায় সার্বিক রক্ষাকবচ চাই।' যদিও কপিল সিব্বলের আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালত জানিয়েছে,-' সব ক্ষেত্রে একইভাবে রক্ষাকবচ কীভাবে দেওয়া যায়? এতে তদন্তে ক্ষতি হতে পারে'। অপরদিকে রাজ্যের আইনজীবী এই মামলায় সময় চেয়ে আবেদন জানান। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।কলকাতা হাইকোর্ট এদিন আরও জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতবি রাখা হল। ততদিন পর্যন্ত তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা যাবে। তবে সব মামলা একত্রিত করে সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না অভিষেককে। সেটা নির্দেশে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। অভিষেকের নামে ৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই এফআইআরগুলির থেকে বাঁচতে সার্বিক রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে তিনি মামলা করেন।
সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, 'একসঙ্গে সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। একসঙ্গে সব মামলা জুড়ে রক্ষাকবচ চাইছেন কী ভাবে? এটা সম্ভব নয়।’ এর আগে এমনই সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।আইনি লড়াইয়ের মাঝে সিব্বল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে যুক্তি দেন, এর আগে একাধিক এফআইআর-এর ক্ষেত্রে শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন মামলা দায়ের করা যাবে না। এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, সেটি একটি সাময়িক অন্তর্বর্তী নির্দেশ ছিল মাত্র।
শুভেন্দু অধিকারীর উদাহরণ সামনে আসতেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারীর মামলার নজির এখানে টানা উপযুক্ত নয়। সব পক্ষের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য না শুনে আদালত এখনই কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করবে না। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।