বসিরহাট : নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বসিরহাটে সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়লেন জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি আবু ইসহাক গাজী ওরফে বাবু গাজী। শনিবার রাতে কংগ্রেসের নতুন দলীয় কমিটি প্রকাশিত হয়। সেই কমিটিতে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সাংগঠনিক কাঠামোয় বসিরহাটকে পৃথক জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আর বসিরহাট জেলা কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দীর্ঘদিনের কংগ্রেস নেতা আবু ইসহাক গাজী ওরফে বাবু গাজী। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বাবু গাজী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর সংগঠনের জেলা সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত। তবে একই সঙ্গে বসিরহাটে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তার মূল লক্ষ্য হবে বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেসের সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও বাড়ানো।
নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তা দেন বাবু গাজী। সেই লক্ষ্যেই বসিরহাট চৌমাথা সংলগ্ন একটি কমিউনিটি হলে জাতীয় কংগ্রেসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। আর সেই অনুষ্ঠানেই কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক দেখা যায়। বাম, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আইএসএফ ছেড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতা, কর্মী ও সমর্থক কংগ্রেসে যোগদান করেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। নবনির্বাচিত জেলা সভাপতির উপস্থিতিতেই তাদের হাতে কংগ্রেসের পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়। এই যোগদানকে ঘিরে অনুষ্ঠানে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বসিরহাটে একসঙ্গে এত সংখ্যক নেতা-কর্মীর দলবদলকে কংগ্রেস নেতৃত্ব বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে। তাদের দাবি, বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কংগ্রেসকে নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে বুথস্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। দলে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের বক্তব্য, রাজ্য তথা দেশজুড়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিজেপিকে প্রতিহত করতে কংগ্রেসই কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। সেই কারণেই তারা কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে গণতান্ত্রিক ও সাংগঠনিকভাবে মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্যেই তারা কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে নতুন জেলা সভাপতি আবু ইসহাক গাজী ওরফে বাবু গাজী জানিয়েছেন, সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সামনে চ্যালেঞ্জ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বসিরহাটে কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে খুব একটা শক্তিশালী নয়। তাই প্রথম কাজ হবে বিভিন্ন এলাকায় দলের পুরনো কর্মীদের সক্রিয় করা, নতুন কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে কংগ্রেসের রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বসিরহাটে দলের সংগঠনকে নতুন করে দাঁড় করাতে চান। বসিরহাটকে পৃথক সাংগঠনিক জেলা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুন জেলা সভাপতি নিয়োগের পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কংগ্রেসে যোগদান এই দুই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।