সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হলো প্রশাসনিক অচলাবস্থা। নির্ধারিত দিন ও সময়ে সভাপতি নির্বাচনের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির কোনো সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় ভেস্তে গেল বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া। একমাত্র বিরোধী দলনেতা উপস্থিত থাকলেও কোরাম পূর্ণ না হওয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন করে কবে নির্বাচন হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
জানা গেছে, রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর বিভিন্ন জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতে পদাধিকারীদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। কোথাও নতুন বোর্ড গঠন হলেও কোথাও তা কার্যত ভেস্তে যায়। সেই পরিস্থিতিরই প্রভাব পড়েছে রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতে। সভাপতি নিবেদিতা সাহা পদত্যাগ করায় বেশ কিছুদিন ধরে শূন্য ছিল সভাপতির পদ।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির নতুন বোর্ড গঠন ও সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। সেইমতো সমিতির মোট ১৫ জন সদস্যকে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। কোরাম বা প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যা পূর্ণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সভাপতি নির্বাচন স্থগিত রাখতে হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট তৎকালীন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিবেদিতা সাহার বিরুদ্ধে তাঁরই দল তৃণমূল কংগ্রেসের ৯ জন সদস্য মহকুমা শাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। এর পরদিন, ২৫ আগস্ট, নিবেদিতা সাহা সদর মহকুমা শাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে সভাপতির পদটি শূন্য হয়ে পড়ে এবং নিয়মমাফিক নতুন সভাপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পরিমল সাহাও পদত্যাগ করেন বলে জানান বিরোধী দলনেতা অনুপ গড়াই। পরপর দুই পদাধিকারীর পদত্যাগ এবং সভাপতি নির্বাচন ভেস্তে যাওয়ায় রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে।
এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা অনুপ গড়াই জানান, পঞ্চায়েত সমিতির এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কীভাবে এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ সচল রাখা যায়, সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই বিডিও ও জেলাশাসকের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।
অপরদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য নূরেতাজ খাতুন ও সুকুমার আচার্য (শোভন) জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা সমিতিতে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁদের দাবি, সমিতির ১০০ মিটার পর্যন্ত কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও তার পরবর্তী অংশে তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন। পাশাপাশি কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে বলে জানান তাঁরা। সেখান থেকে নির্দেশ আসার কথা থাকলেও এদিন তা আসেনি। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান ওই সদস্যরা।
এখন নতুন করে সভাপতি নির্বাচনের দিন কবে ধার্য হয় এবং সেদিন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে রাজনগরবাসীর।