বসিরহাট : ২০০৪ সালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীর নামে দানস্বত্বে হস্তান্তরিত হওয়া প্রায় তিন কাঠা জমি ২০১৪ সালে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলের অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের প্রভাব খাটানোরও অভিযোগ করেছেন সম্পত্তির দাবিদার সাহিদা বিবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বসিরহাট ১নং ব্লকের পিফা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুবিদপুর এলাকায় বিক্ষোভ ও বসিরহাট-তালপুকুর রোড অবরোধ করেন সাহিদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ, ২০০৪ সালে রুফুল আমিন গাজী তার স্ত্রী সাহিদা বিবির নামে প্রায় তিন কাঠা সম্পত্তি দানস্বত্ব দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। সাহিদা বিবির দাবি, পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়ে এবং তৎকালীন পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের সহযোগিতায় স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন মণ্ডল ওই জমি দখল করে নেন। এরপর সেখানে দোতলা বাড়ি এবং কয়েকটি দোকানঘর তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। সাহিদা বিবির দাবি, তিনি ওই সম্পত্তি কখনও বিক্রি করেননি। তার অভিযোগ, তার জমির নামে অন্যভাবে দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে। সেই সময় রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় ভয়ে তারা থানায় অভিযোগ জানাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি তাদের ওই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে তারা অন্য একটি গ্রামে বসবাস করছেন। সাহিদা বিবি বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পর জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চললেও এখনও জমির দখল ফিরে পাননি বলে দাবি। তার বক্তব্য, বারবার দখলে থাকা ব্যক্তির কাছে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেও কোনও সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হয়েছে। তাদের ন্যায্য সম্পত্তি তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন মণ্ডল। তার দাবি, তারা অর্থের বিনিময়ে ওই সম্পত্তি পেয়েছেন এবং কোনও অন্যায় করেননি। পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলেও দাবি তার।
তবে এই জমি নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সাহিদা বিবির দাবি, তিনি জমিটি কখনও বিক্রি করেননি। অথচ বিতর্কিত জমির দলিলে তার স্বামীর ছবি ও টিপসই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২০০৪ সালে স্বামী যদি দানস্বত্বের মাধ্যমে জমি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করে থাকেন, তাহলে পরবর্তীকালে সেই জমি কীভাবে অন্যত্র বিক্রি বা হস্তান্তর করা হলো, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং পরবর্তী হস্তান্তরের বিষয়টি খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।