মোল্লা জসিমউদ্দিন, সোমবার 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুর্নীতির অভিযোগ ও বেআইনি চিকিৎসার দাবি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বড়সড় আইনি রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর নিয়ে রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট।
এদিন অভিষেকের সেবাশ্রয় সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, 'যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়। গত কয়েক মাসে এক জন ব্যক্তির নামে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতো নির্দেশ দিতে বাধ্য হব। আদালতের অনুমতি ছাড়া আর কোনও এফআইআর করা যাবে না। এটা কী চলছে?’ রাজ্যের উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘চিকিৎসা আদৌ ভুল ছিল কি না? তা যাচাই করার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ রয়েছে। সেখানে কেন অভিযোগ জানানো হয়নি? তা ছাড়া, ভুল চিকিৎসা হলেও অভিষেক তাঁর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেন না।
’ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ থাকাকালীন দুবার সেবাশ্রয়ের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। বিনামূল্যে ডায়মন্ডহারবারবাসীর জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই শিবিরে গিয়ে ভুল চিকিৎসার জন্য কারোর হাত খোয়া গিয়েছে তো কারোর পা। সেই বিষয়কে নিয়ে একাধিক অভিযোগ থানায় দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল বিষ্ণুপুর, নেতাজি নগর থানা। যার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সাংসদ।
সেই মামলার শুনানিতেই এদিন বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি মামলার শুনানিত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘এটা চিকিৎসার গাফিলতির বিষয়। এই নিয়ে যদি কোনও অভিযোগ ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের কাছে করেছেন, তার নথি দেখান আমায়। অনেক হয়েছে। চিকিৎসকও জড়িত থাকলে আইন অনুসারে তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে। এটা বড়জোড় চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে। তদন্তের আগে কি সরাসরি দোষী বলা যায়? এই অভিযোগে সন্তুষ্ট নই। তদন্ত চলতে পারে।’ ভোটের রেজাল্টের পর থেকে ক্রমাগত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগে বিরক্ত কলকাতা হাইকোর্ট । গত ২১ মে থেকে একই ধরনের অভিযোগ শুনে ক্লান্ত,পর্যবেক্ষণ আদালতের।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, "বাধ্য হব নির্দেশ দিতে, নতুন করে কোনও এফআইআর করবেন না আদালতের আদেশ ছাড়া।তারপরেই অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।