মোল্লা জসিমউদ্দিন : বৃহস্পতিবার আসন্ন পুজোর মুখে রোজভ্যালির আমানতকারীদের জন্য এল বড় খবর।এদিন কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির সময় এডিসি কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, -'পুজোর আগেই আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে'। বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়ালের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতে এই আশ্বাস দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে রোজভ্যালির কাছে আটকে থাকা টাকা ফেরতের দাবিতে আমানতকারীদের হয়ে বিষয়টি আদালতে তুলে ধরা হয়। সেই শুনানিতেই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার বিষয়ে এডিসি কমিটির অবস্থান স্পষ্ট হয়।রোজভ্যালি আর্থিক দুর্নীতি ভারতের পূর্বাঞ্চলের-বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ওড়িশা এবং আসামের- অন্যতম বৃহত্তম চিটফান্ড কেলেঙ্কারি। গৌতম কুণ্ডুর নেতৃত্বাধীন 'রোজভ্যালি ' কম সময়ে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা বাজার থেকে তুলেছিল, যা সারদা কেলেঙ্কারির পরিমাণের চেয়ে বহুগুণে বেশি। রিজার্ভ ব্যাংক বা সেবির কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই সংস্থাটি বাজার থেকে টাকা তুলত। ভুয়ো ডিবেঞ্চার বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ করত। মূলত গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রায় ৬০ লাখের বেশি মানুষ বেশি সুদের আশায় নিজেদের সারাজীবনের উপার্জিত সঞ্চয় রোজভ্যালি সংস্থায় বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
গত ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে তদন্তকারী সংস্থাগুলি সংস্থার একাধিক হোটেল, জমি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে। ভুক্তভোগীদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশিত কমিটি গঠিত হয়। এদিন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এর জোড়ালো সওয়ালে এডিসি কমিটি এই চিটফান্ডে প্রতারিতদের ৫০০ কোটি অর্থ ফেরতদানের পথ সম্পর্কে অবগত করে কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি রাজশ্রী ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে , শুধু ৫০০ কোটি টাকা নয় রোজভ্যালির সম্পত্তি অবিলম্বে বিক্রয় করে সমস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে।