সাধন মন্ডল বাঁকুড়া :-
মুকুটমণিপুর একলব্য মডেল স্কুলের আবাসিক পড়ুয়াদের দেওয়া হয় অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার। অন্যান্য সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত রাখা হয় পড়ুয়াদের। প্রতিবাদ করলে পড়ুয়াদের কপালে জোটে মারধর ও অকথ্য নির্যাতন এই অভিযোগ তুলে এবং স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদলের দাবি তুলে পথ অবরোধে নামল বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুরে থাকা একলব্য মডেল স্কুলের পড়ুয়ারা। সকাল ১০ টা থেকে লাগাতার পথ অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভে সামিল হল ওই স্কুলের প্রায় সাড়ে চারশো জন আবাসিক পড়ুয়া।
বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুরে থাকা একলব্য মডেল স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেলে কমবেশি সাড়ে চারশো জন আবাসিক পড়ুয়া রয়েছে। আবাসিকে থাকা ১০০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ের। অভিযোগ ছাত্র ও ছাত্রীদের যে দুটি হোস্টেল রয়েছে সেই দুটির রান্নাঘরে আবাসিক পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য পৃথক মানের খাবার রান্না করা হয়। পড়ুয়াদের যে খাবার দেওয়া হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। খাবার ছাড়াও পড়ুয়াদের পোষাক থেকে শুরু করে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে স্কুল ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে পড়ুয়ারা বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ। এছাড়াও পড়ুয়াদের খেলাধূলার জন্য নির্দিষ্ট কোচ থাকার কথা থাকলেও সেই কোচ দেওয়া হয়নি। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও হোস্টেলের আধিকারিকেরা পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদলের দাবি তুলে আজ সকাল ১০ টা থেকে স্কুলের সামনে মুকুটমনিপুর গোড়াবাড়ি রাস্তায় বসে পড়ে একলব্য মডেল স্কুলের আবাসিক পড়ুয়ারা। চলে বিক্ষোভ।বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের দাবি বাঁকুড়ার জেলা শাসক অথবা আদিবাসী অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতরের প্রোজেক্ট অফিসারকে অবরোধস্থলে এসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই আন্দোলন থেকে সরবে না । পড়ুয়াদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। ঘটনা চলে হাজির হয়েছিলেন খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আখতার আলী খাতড়া মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য সহ প্রশাসনের আধিকারিক বৃন্দ। মহকুমা শাসকের অনুরোধে ও আগামী সপ্তাহে বিদ্যালয়ের অভাব অভিযোগ নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মহকুমা প্রশাসনের বৈঠকের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। এ প্রসঙ্গে খাতড়া মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য বলেন আমি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলেছি তাদের বুঝিয়েছি পথ অবরোধ টা কোন সমাধানের পথ নয় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে ওরা আমার কথা শুনে অবরোধ তুলে নেয়।