সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম : ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় থানা এলাকায় সাইবার অপরাধের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও ভরসা বাড়ানোর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ নিল খয়রাশোল থানার পুলিশ।
খয়রাশোল থানা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এদিন ‘পুলিশ গেস্ট হাউস’, ‘উইমেন হেল্প ডেস্ক’ এবং ‘সাইবার সেল’-এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার বিদিশ রাজ বুন্দেশ।
অনুষ্ঠানে পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ১৬টি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল ফোন ‘অপারেশন প্রাপ্তি’র মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন দুষ্কৃতীদের হাতে পড়লে তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দ্রুততার সঙ্গে প্রযুক্তির সাহায্যে ফোনগুলির সন্ধান চালিয়ে সেগুলি উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়া দু’জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া মোট ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়। এদিন ডেমো চেকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া সেই টাকা ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল দাসের নেতৃত্বে সাইবার প্রতারণার টাকা উদ্ধারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন থানার এসআই অমূল্য মণ্ডল ও এসআই আসিফ রাইহান বিশ্বাস। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জামতাড়া-সহ বিভিন্ন জায়গার সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে সাধারণ মানুষ যাতে না পড়েন, সেদিকেও পুলিশ বিশেষ নজর দিচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে খয়রাশোল এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আদিবাসী নৃত্য-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার বিদিশ রাজ বুন্দেশ, দুবরাজপুর সার্কেল ইন্সপেক্টর শুভাশীষ হালদার,
দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, খয়রাশোলের বিডিও ডঃ সৌমেন্দু গাঙ্গুলী, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন, গীতা ভবনের স্বামী সত্যানন্দ মহারাজ খয়রাসোল থানার ওসি উৎপল দাস-সহ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
খয়রাশোল থানার ওসি উৎপল দাস তার বক্তব্যে বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশের বিভিন্ন শাখার আধিকারিক, পুলিশকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ধারকাজ সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ও একযোগে কাজ করা হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
জেলা পুলিশ সুপার বিদিশ রাজ বুন্দেশ বলেন, “পুলিশের আসল শক্তি লাঠি বা বন্দুক নয়, মানুষের বিশ্বাস।” তিনি জানান, খয়রাশোলের মুড়াবেড়িয়া ও জামতাড়া সংলগ্ন অবস্থানের কারণে এলাকায় সাইবার অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, OTP বা ব্যক্তিগত তথ্য কাউকে দেওয়া যাবে না এবং অচেনা কোনও লিঙ্কে ক্লিক করা উচিত নয়।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার জানান, পুজো কমিটিগুলির বিভিন্ন অনুমতির ক্ষেত্রে ‘সহজ পোর্টাল’-এর মাধ্যমে সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে পুজো কমিটিগুলিকে অনুমতির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে ঘুরতে হবে না।
সাইবার প্রতারণার টাকা ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগে খয়রাশোল থানার পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন উপস্থিতরা।