সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। আর সেই পূর্বাভাসকে সামনে রেখে আগাম সতর্কতা হিসেবে চলতি মরসুমে এই প্রথমবার মুকুটমণিপুরের কংসাবতী জলাধার থেকে কংসাবতী নদীতে জল ছাড়া হল। সোমবার সন্ধ্যায় জলাধারের তিনটি গেট দিয়ে মোট ৫ হাজার কিউসেক হারে কংসাবতী নদীতে নামছে জল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাধারের জলস্তর বেড়েছে। সোমবার দুপুর নাগাদ জলস্তরের উচ্চতা পৌঁছে যায় প্রায় ৪৩০ ফুটে। যেখানে মুকুটমণিপুর জলাধারের মোট জলধারণ ক্ষমতা প্রায় ৪৩৪ ফুট।
মূলত কাঁসাই ও কুমারী নদী দিয়ে মুকুটমণিপুর জলাধারে জল আসে। পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার দক্ষিণাংশে ভারী বৃষ্টি হলে এই দুই নদী দিয়ে দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে জলাধারে। আবার নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। তাই জলাধারে অতিরিক্ত জল ঢোকার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে কংসাবতী সেচ দত্তর সূত্রে জানা যায়।
জল ছাড়ার আগে কংসাবতীর নিম্ন অববাহিকায় থাকা বাঁকুড়ার একাধিক ব্লক এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে কংসাবতী সেচ দফতরের দাবি, এই মুহূর্তে যে হারে জল ছাড়া হচ্ছে, তাতে জলাধার থেকে ছাড়া জলের কারণে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁকুড়া জেলার রাইপুর, সারেঙ্গা, খাতড়া, ব্লকসহ পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম এর নদী তীরবর্তী এলাকা গুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।