মোল্লা জসিমউদ্দিন, শুক্রবার মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মহানগরের প্রায় ৫০টি বেআইনি নির্মাণের তদন্তভার সিবিআই-য়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে।রাজ্যের উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, -'এই বেআইনি নির্মাণের পিছনে কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়েছে'।তাই বেআইনি নির্মাণ খতিয়ে দেখতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেই দায়িত্ব দিল হাইকোর্ট।
মূলত, রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা থেকে শুরু ক্যানাল স্ট্রিটে এমন অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল রয়েছে। যার উপর নজর পড়েছে কলকাতা হাইকোর্টের । এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রিয়েল এস্টেট কারবারের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের কালো টাকা সাদা করা হয়েছে।
কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের বিষয়টি অজানা ছিল না কলকাতা পুরসভার কাছে। তা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে। কেন সব কিছু জানা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুরসভা? এই অপকর্মে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কিনা?সে সব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারপরেই তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন সিবিআই আদালতে জানায়, -'মামলাকারী তাদের সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই কোনও পদক্ষের করা যায়নি। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেন এবং বহু কর্তাব্যক্তি জড়িত বলেই মনে করা হয়েছে। তাই তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে সরাসরি সিবিআই হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে পূর্ণ আইনি এক্তিয়ারও দিয়েছে হাইকোর্ট।আগামী ১৪ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। পরবর্তী শুনানির মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ জানানো হয়েছে।