বসিরহাট : মুসলিম সমাজের উন্নয়ন ও সংগঠন বিস্তারের বার্তা নিয়ে হাড়োয়ায় মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের জনসমাবেশ। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করল মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত এই সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসিরহাটের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হাড়োয়া ব্লকের সোনাপুকুর-শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাড়োয়া অটো স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় আয়োজন করা হয় এক বিশাল জনসমাবেশের।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসলিম সমাজের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখে কাজ করতে চায় মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ। শুধু সাংগঠনিক বিস্তার নয়, মুসলিম সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাড়োয়ার এই জনসমাবেশকে ঘিরে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসাহ। বসিরহাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের একাংশ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হন। বক্তাদের বক্তব্যে মুসলিম সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলি উঠে আসে।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম সমাজের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের সংগঠন বিস্তারের দাবি করে আসছে। সংগঠনের বক্তব্য, দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতো মুসলিম সমাজেরও শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সমাজের মধ্যে বিভাজন নয়, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথাও বলা হয়। হাড়োয়ার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের বড় জনসমাবেশকে সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী দিনে বসিরহাটের আরও বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে এই কর্মসূচিকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠন হিসেবে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
হাড়োয়ার জনসমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটি স্থানীয় মুসলিম সমাজের কতটা সমর্থন আদায় করতে পারে এবং আগামী দিনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের।