সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম : রাখীবন্ধনের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ভারতীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে এই উৎসব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকাল থেকেই ভাই-বোনের স্নেহ, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে রাখীবন্ধন উৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে আধুনিক যুগে সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাখী উৎসবকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ব্রিটিশ সরকারের বিভাজন নীতির বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী উৎসবকে সামাজিক বন্ধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পরস্পরের হাতে রাখী বাঁধার আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন।
সেই ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তাকে সামনে রেখে শুক্রবার, ২৮ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষণামতো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাখীবন্ধন উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তারই অঙ্গ হিসেবে বীরভূম জেলা পুলিশের উদ্যোগে এবং খয়রাসোল থানার ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় থানা চত্বরে দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও পথ নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে একটি পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি স্থানীয় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিক্রমা করে। পথচলতি মানুষ এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের হাতে রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
পুলিশ আধিকারিকরা যানবাহন চালকদের হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং কানে হেডফোন লাগিয়ে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় থানার পরিচালনায় ক্যারাটে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ক্যারাটে প্রদর্শন করে। যোগা স্কুলের ছেলেমেয়েদের যোগব্যায়াম প্রদর্শনের পাশাপাশি এলাকার কচিকাঁচারা মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহে খয়রাসোল থানা চত্বর এদিন যেন ছোটখাটো মেলার আকার ধারণ করে। উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।
পদযাত্রা ও মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি ক্রাইম প্রতীক রায়, দুবরাজপুর সার্কেল ইন্সপেক্টর শুভাশীষ হালদার, খয়রাসোল থানার ওসি উৎপল কুমার দাসসহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক, পুলিশ কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়াররা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা তথা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মহুয়া চৌধুরী তাঁর শিশুকে নিয়ে থানায় আয়োজিত নৃত্যানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় থানার উদ্যোগে রাখীবন্ধনকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পথ নিরাপত্তা সচেতনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সব মিলিয়ে রাখীর বন্ধনে সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও নিরাপদ পথ চলার বার্তা দিয়ে খয়রাসোল থানার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলেছে।