মোল্লা জসিমউদ্দিন, বিগত তৃণমূল জমানায় যত জাতিগত বা কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে তা যাচাই করা হবে। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মর্মে গত ১৪ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল নবান্নের তরফে। সেই বিজ্ঞপ্তি সহ গোটা প্রক্রিয়ার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।'দুয়ারে সরকারের' মাধ্যমে বিলি হওয়া জাতিগত শংসাপত্রের একটা বড় অংশ ভুয়ো বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বর্তমান রাজ্য সরকার। তাই গত তৃণমূল জমানায় ইস্যু করা সমস্ত সার্টিফিকেট যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল।
সেই মামলার শুনানিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে।১৪ ই মের জাতিগত শংসাপত্রের রাজ্য সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তি উপরেই এবার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, জাতিগত শংসাপত্রে যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে বাতিল করা হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল, -'রাজ্যের এই ধরনের কোনও ক্ষমতা নেই শংসাপত্র বাতিল করার'।
পাল্টা আবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, -'রাজ্য সরকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সহ অন্যান্য নথি এবং জাতিগত পারিবারিক বিষয়কে যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।'২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া ১.৬৯ কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট বা এসসি, এসটি জাতিগত শংসাপত্রের আরও একবার যাচাইয়ের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিজেপি সরকার। গত ১৪ মে সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাইয়ে বাধা নেই, তা আইনেই ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় থেকে ধরে যাবতীয় এসসি, এসটি, ওবিসি সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই-য়ের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলার শুনানিতেই আপাতত রাজ্যকে গোটা প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
গত ১৪ মে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের সচিব সঞ্জয় বনসল সব জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে এই শংসাপত্র যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, এই কাজে কোনও শিথিলতা দেখা গেলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিক দায়ী থাকতে হবে। যদিও গোটা প্রক্রিয়ার উপর মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট।দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের ১৪ মে-র বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি রাখার নির্দেশ দেয়।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কোনও সাধারণ যাচাই করা যাবে না।তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও পরিষ্কার করেছে। কোনও নির্দিষ্ট জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে যদি অভিযোগ আসে, সেক্ষেত্রে জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথকভাবে তদন্ত ও যাচাই করতে পারবেন। অর্থাৎ, রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি মেনে গণহারে শংসাপত্র পুনর্যাচাই আপাতত বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের রাস্তা খোলা থাকছে।