মোল্লা জসিমউদ্দিন, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিনই প্রায় একাধিক মামলা দায়ের হচ্ছে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে। সেই মামলাগুলি ও গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক। ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন অর্থাৎ শর্তহীন রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক ।তাঁর আইনজীবীর দাবি, ‘রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্য এটি একটি পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত প্রয়াস। বহু পুরনো অভিযোগ তুলে নতুন করে পুলিশের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত এফআইআর দায়েরও করছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করা এবং ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলার মাধ্যমে একজন বিরোধী নেতার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির আশঙ্কাও থাকছে। তাই ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন বা শর্তহীন রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এমন প্রোটেকশন পেয়েছিলেন।
কলকাতা হাইকোর্টই সেই বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিল।এর আগে দেখা যায়, পূর্বতন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতাও এই ধরনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা করেছিলেন। সে সময়ে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা তাঁকে একটি রক্ষাকবচও দেন। আবেদন ছিল, এভাবে তাঁকে বারবার হেনস্থা না করে, যে কোনও এফআইআর করার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া। পালাবদলের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই একই ধরনের মামলা করেছেন। এই মামলায় বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, -'ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। তাহলে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়?
'অভিষেকের আইনজীবীর আর্জির ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ দিয়েছি। তাহলে পুলিশ ডাকলে অসুবিধা কোথায়? মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।’ তখনই অভিষেকের আইনজীবী জানান, ‘রোজ নতুন নতুন এফআইআর হচ্ছে।’ তখনই বিচারপতি বলেন, ‘তালিকা দেওয়া হোক, কটি এফআইআর হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে আটটি কেস রয়েছে।’ তারপরই পুলিশকে রিপোর্ট জমা করার মৌখিক নির্দেশ দেন বিচারপতি। আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।