বসিরহাট : টাকি পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে এসে দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে যাতে পর্যটকদের বঞ্চিত হতে না হয়, সেই ভাবনা থেকেই অভিনব উদ্যোগ নিল হোটেল কর্তৃপক্ষ। ইছামতি নদীর তীরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করলো দিভিরা রিভার রিট্রিট টাকি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর পাড়ে এই পুজোয় একদিকে যেমন মিলবে নদীর নৈসর্গিক পরিবেশ, তেমনই উপভোগ করা যাবে দুর্গোৎসবের চেনা আবহ।

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বসিরহাটের টাকি ইতিমধ্যেই জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। বিশেষ করে পুজোর সময় বহু মানুষ টাকিতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু বেড়াতে এসে কোথায় অঞ্জলি দেবেন, কোথায় সন্ধিপুজো দেখবেন কিংবা কোথায় ভোগ খাবেন, তা নিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। ভ্রমণের আনন্দে অনেকেই মিস করেন পুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও। পর্যটকদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই হোটেলের মধ্যেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন কর্তৃপক্ষ।
দিভিরা রিভার রিট্রিটের কর্ণধার জয়ন্ত কুণ্ডু জানান, পুজোর সময় বহু মানুষ টাকিতে বেড়াতে এলেও নানা কারণে অঞ্জলি দেওয়া, সন্ধিপুজো দেখা কিংবা প্রসাদ গ্রহণের সুযোগ পান না। পর্যটকেরা যাতে বেড়ানোর পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আনন্দও উপভোগ করতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর তীরে পুজোর আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। হোটেল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আগত পর্যটকেরাও।
খড়গপুর থেকে আসা এক পর্যটকের কথায়, দিভিরা রিভার রিট্রিটের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একদিকে উন্নত মানের হোটেলের আতিথেয়তা, অন্যদিকে ইছামতি নদীর তীরে দুর্গাপুজোর আবহ—দুইয়ের মেলবন্ধন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। টাকিতে বেড়াতে এসে এবার তাই শুধু নদীর সৌন্দর্য উপভোগ নয়, দুর্গোৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে সামিল হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা।