সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া : গ্রামবাসীদের ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিনের কিন্তু সেভাবে এগিয়ে এসে কেউ দুর্গা পুজো করার সাহস দেখাননি। অবশেষে গ্রামবাসীদের স্বপ্ন পূরণ করল গ্রামের দুর্গারা। বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গোঁসাই ডাঙ্গা গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগে ও পরিচালনায় অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা একত্রিত করে প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছেন তারা। মহিলাদের এই উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হওয়া দুর্গা পুজো ঘিরে খুশির হাওয়া গোটা গ্রামজুড়ে। এমনকি পাশাপাশি আড়কামা, গোপি সাগর ,দামোদরপুর ,সিমলা কোরালদীঘি প্রভৃতি গ্রামে আনন্দের ছোঁয়া। গোসাইডাঙ্গার চারটি পাড়ায় প্রায় ২০০টি পরিবারের বসবাস। এতদিন গ্রামে কোনও দুর্গাপুজো হতো না। প্রায় দুকিলোমিটার দূরে বৈদ্যনাথপুরে পুজো দেখতে যেতেন বাসিন্দারা। আবার খাতড়া মহকুমা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে মহকুমা শহরে পুজো দেখতে যেতে হত। কিন্তু বয়স্কদের অনেকেই দূরত্বের কারণে যেতে পারতেন না। গ্রামে আত্মীয়-স্বজন এলেও নিজেদের পুজো না থাকায় আক্ষেপ ছিল অনেকেরই। বয়স্ক মানুষের া পাশাপাশি গ্রাম আড়কামাতে পূজো দেখতে যেতেন। অন্য গ্রামে গিয়ে পুজো দেখে আশায় ছিল আনন্দের। এবার সেই আনন্দ ভাগ করে নিলেন গ্রামবাসীরা নিজেদের গ্রামে পুজোর উদ্যোগ নিয়ে।
গ্রামে পুজো না থাকার আক্ষেপ দূর করতে প্রায় ২০ দিন আগে বৈঠকে বসেন গ্রামের মহিলারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা দিয়ে শুরু হবে গ্রামের প্রথম দুর্গাপুজো। গ্রামের প্রায় ১৪০ জন মহিলা তিন হাজার টাকা করে সহায়তা পেয়েছেন। সেই টাকা একত্রিত করেই শুরু হয় পুজোর প্রস্তুতি। আর্থিক সহায়তা না পাওয়া বাসিন্দারাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পুজোর বিশেষত্ব, পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব মহিলাদের হাতে। তারাই তৈরি করেছেন পুজো কমিটি। সভাপতি, সম্পাদক সহ সব গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন মহিলারা। পুরুষদের সমর্থন থাকলেও পুজোর আয়োজন থেকে পরিচালনা, সব ক্ষেত্রেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গ্রামের মহিলারা।
প্রথম বছর বলে আয়োজন সীমিত হলেও উৎসাহে কোনও খামতি নেই। গ্রামের হরিমন্দিরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে পূজা প্যান্ডেল, খাতড়া শহর থেকে মাতৃ মূর্তি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুজোর চার দিন কচিকাঁচাদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে মিঠু ঘোষ জানান ।তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের বাড়ির ছেলেদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা দিয়েই আমরা পূজা করছি। আগামী বছর আরও বড় করে পুজোর আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, গ্রামের মধ্যেই প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া এক লক্ষ টাকা অনুদানও পেয়েছি। পুজোর খরচ সামলাতে এই অর্থ বিশেষভাবে কাজে লাগবে।
পুজো কমিটির সভাপতি অপর্ণা দুলে বাউরী, সম্পাদিকা নীলিমা মুদিরা বলেন, এতদিন নিজেদের গ্রামে দুর্গাপুজো না থাকায় মন খারাপ হতো। বিশেষ করে বয়স্কদের পক্ষে অন্য গ্রামে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করা কঠিন ছিল। এবার নিজেদের গ্রামেই পুজোর আয়োজন করতে পেরে আমারা আনন্দিত। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাই। বলতে পারেন তারই অনুপ্রেরণায় আমাদের এই এত বড় সাহসিকতার নিদর্শন। নারী শক্তির জয় হোক।