সঞ্জয় কুমার দোলুই, হুগলি : সপ্তমী ভোর ৪:১৫ মিনিট থেকে নবপত্রিকা স্নান / কলাবউ স্নান চলছে গ্রাম থেকে শহরে। কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান, ধান নয়টি গাছের সহযোগে নবপত্রিকা। এই নয়টি গাছ দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ বা শক্তি রূপে পূজিত হয়। সপ্তামীর ভোরে নদী, পুকুর ঘাটে, পবিত্র জলে ঢাক, কাঁসর, বাজিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ মাধ্যমে এই নবপত্রিকা স্নান করানো হয়। বধূ রূপে কলা গাছকে লালাপেড়ে শাড়ি পড়িয়ে ঘোমটা দিয়ে স্নান করানো হয়। একে কলাবউ স্নান বলে।


নবপত্রিকা স্নান / কলাবউ স্নান এর শোভাযাত্রা দেখা গেল অরুন্ডা গ্রাম বন্ধু মিলন সংঘ দুর্গাপুজা কমিটির পুজায়। সপ্তমীর ভোরে গ্রামের কচিকাঁচা ও গ্রাম্য-বধুরা শোভাযাত্রা করে হরিণাখালি নদীতে কলাবউ স্নান করালেন। ঝাঁজ, ঘন্টা, বাদ্যি, ব্যঞ্জ সহকারে মন্ত্র উচ্চারণ মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা হরিণাখালী নদীতে নবপত্রিকা স্নান / কলাবউ স্নান করালেন পুরোহিত মশাই। আশ্বিণের শারদ প্রাতে হিমের পরশের ছোঁয়া নদীর তীরবর্তী হাওয়া, ঝাঁজ, ঘন্টা, বাদ্যি, ব্যঞ্জ এর সুর ধ্বনিত হচ্ছে চারিদিকে, গ্রাম্যকুল বধূদের শঙ্খ ও উলুধ্বনি, ব্রাহ্মণ মশাইয়ে মন্ত্র উচ্চারিত ধ্বনি এক অপূর্ব পরিবেশে কলাবউ স্নান মুগ্ধ করলো অরুন্ডা-গ্রামবাসীদের। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে সাক্ষী থাকলো অরুন্ডা গ্রাম।

এই বছর প্রথম দুর্গাপুজা অরুন্ডা দক্ষিণ পাড়ায়। দুর্গাপুজার আনন্দ মাতোয়ারা গ্রাম। নবপত্রিকার স্নান /কলাবউ এর স্নানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখ খুব খুশি গ্রামবাসীরা। গ্রামের প্রবীণ মানুষ অশোক সিং বলেন, "নবপত্রিকার স্নান /কলাবউ এর স্নান দেখে প্রাণ টা জুড়িয়ে গেল"। ক্লাবের এক সদস্য গনেশ মাজী বলেন, অসাধারণ দৃশ্য কলবউ স্নান, গ্রামের কচিকাঁচা থেকে মহিলারা এমনকি বয়স্করা পর্যন্ত শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করে আমরা খুব আনন্দিত হয়েছি"।