মোল্লা জসিমউদ্দিন, ধর্মতলাতেই একুশে জুলাইয়ের সভা করতে চেয়ে অনড় কালীঘাট তৃণমূল। যদিও ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কোনও সভার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। আগামী তিন মাস ওই জায়গায় জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা (বিএনএস)। তাই ধর্মতলায় কোনও সভার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলকে আগেই জানিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের সিপি অজয় নন্দা।এবার সেই ইস্যুতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবছর ওই জায়গায় সভাটি করে। কিন্তু চলতি বছরে ওই জায়গায় সভা করার অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। এই দাবিতেই রাজ্যের উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। ওই একই জায়গায় সভা করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে পৃথক আবেদন করেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল নেতারা। তাঁদেরও ওই জায়গায় সভার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে একুশে জুলাই পালন করতে চেয়ে ঋতব্রত প্রন্থীরা আর্জি জানিয়েছে কলকাতা পুলিশের কাছে। সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অনুমতি পায়নি ঋতব্রতরা। যদিও ধর্মতলাতেই সভা করতে চায় কালীঘাট তৃণমূল।
সেই সভার অনুমতির জন্যই শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ছুটেছেন মমতাপন্থীরা। তাঁদের যুক্তি, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানের সময়ে তৎকালীন সরকারপক্ষের তরফে গুলিচালনার ঘটনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পালন করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ওই জায়গা বলে সেখানেই শহিদ দিবস উদযাপন করতে চায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল।মামলায় বলা হয়েছে, ২ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ভিক্টোরিয়া হাউস ও এসপ্ল্যানেড চত্বরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারায় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি বছরের মতো ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশ আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল । ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নিহত ১৩ জনের স্মরণে প্রতিবছর এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।তৃণমূলের দাবি, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করেই শুধুমাত্র গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করে আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি বাতিলের আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ জুন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। পরে ৩০ জুন ও ১ জুলাই পুলিশ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়। এমনকি বিকল্প হিসেবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়ে পুলিশ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।