সেখ রিয়াজউদ্দিন, বীরভূম : ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিবস উপলক্ষে বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে দিনটি ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এর আগের দিন বিভিন্ন গ্রামের ষোলোআনা কমিটি ও মসজিদ কমিটির উদ্যোগে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সাফাই অভিযান চালানো হয়। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন রোগী, তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে ফল ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সুসজ্জিত শোভাযাত্রা বের হয়। কোথাও কোরআন তেলাওয়াত, ইসলামী গজল, নাত ও কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
সেরূপভাবে বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর, খয়রাশোল ও কাঁকরতলা থানা এলাকার বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে সরকারি নির্দেশিকা মেনে শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। লোকপুর থানার শালনদীর তীরে খন্নি গ্রামে অবস্থিত হজরত সৈয়দ শাহ তাজ ওলীর মাজার শরিফে জিয়ারত করতে বহু ভক্ত ও অনুরাগীর সমাগম ঘটে।
এদিন লোকপুর থানার সীমান্তবর্তী ঝাড়খণ্ডের চন্দ্রপুর গ্রাম থেকেও বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল র্যালি করে বহু মানুষ খন্নি গ্রামের মাজার শরিফে আসেন। বাগডহরী থানার গ্রামীণ পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় র্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। জিয়ারত শেষে একইভাবে তাঁরা নিজেদের এলাকায় ফিরে যান।
দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির উদ্দেশে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির যে বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাস্তব জীবনে তা পালন করাই হওয়া উচিত নবী দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য।
নবী দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেখ নাসিরুদ্দিন এবং খন্নি গ্রামের মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ সাফিউল হোসেন খান পৃথক সাক্ষাৎকারে দিনটির গুরুত্ব ও বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতি, মানবসেবা ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।