মোল্লা জসিমউদ্দিন, শুক্রবার ভিআইপি রোড এবং উল্টোডাঙা সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখল মামলায় আরও কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে তীব্র ভর্ৎসনা করে আগামী ২৩ জুলাই সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় হাইকোর্ট। তিনটি রিপোর্টে সন্তোষজনক কিছু নেই। ডিস্ট্রিক্ট ল অফিসারকে দিয়ে জেলাশাসক হাইকোর্টে হলফনামা জমা করেছেন বলে জানা গেছে । ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায় - 'ওনাকে এজলাসে স্বশরীরে এসেই কৈফিয়ত দিতে হবে। ভার্চুয়াল হাজিরা হবে না। সশরীরের হাজিরার শুনানি এগোনো যাবে না'।
ডিএম এর কাছ থেকে একাধিক বিষয় জানতে চায় আদালত', পর্যবেক্ষণ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চের। এদিন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'জেলাশাসক হাজিরা যদি এগিয়ে আনা যায়। ভার্চুয়ালি হাজিরা যদি করা যায়। আগের হলফনামা সঠিক ছিলো না 'স্বীকার করে নেন এজি। গত ১০ জুলাই হাইকোর্টে মামলা উঠলে হাইকোর্টে দায়সারা রিপোর্ট দেওয়ায় উত্তর ২৪ পরগণার জেলা শাসককে আদালতে হাজির হয়ে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের। আগামী ২৩ জুলাই এজলাসে তলব করা হয়েছে জেলনশাসককে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এদিন শুনানির সময় প্রশ্ন তোলেন, "জেলাশাসককে আসতে বলুন, উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের উপরে মনে করেন? ডিস্ট্রিক্ট ল অফিসার জেলাশাসকের হয়ে ফাইল করছেন রিপোর্ট?'সওয়াল জবাবে মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, "পদক্ষেপ নিয়ে রিপোর্ট তিনবার বার চাওয়া হয়েছে। তাও স্পষ্ট আকারে রিপোর্ট দেননি। আদালত শেষ নির্দেশে সতর্ক করে জানায় এবার রিপোর্ট ঠিক ভাবে না দিলে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হবে। তারপরেও মানছেন না।" ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, "আমাদের মনে হচ্ছে ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। তাই স্বশরীরে আসতে হবে হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না"।
২৩ জুলাই সকাল সাড়ে দশটায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে। আদালত সুত্রে জানা গেছে, রাস্তার দুই পাশে বেআইনি জবরদখলে পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মানের অভিযোগ নিয়ে মামলা হয় ২০২২ সালে । নয়নজুলি বুজিয়ে বেআইনি নির্মান। সব সরিয়ে নয়নজুলি খাল মুক্ত করতে হবে আর্জি করা হয় মামলায়।
২০২২ সালে জেলা শাসক স্বীকার করে নেন জবরদখল হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সে সময় নির্দেশ দেয়, এর পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার রিপোর্ট দিতে হবে। এরপর জেলাশাসক বদলেছে বহুবার, কিন্তু রিপোর্ট জমা হয়নি।আগামী ২৩ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।