সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম: বাড়ির পরিচারিকার নাবালিকা মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিজেপির যুবমোর্চা নেতা অরূপ মণ্ডল। শুক্রবার সকালে বীরভূমের আহমদপুরের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলাজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ মণ্ডল বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা যুবমোর্চার সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে কাজ করা এক পরিচারিকার নাবালিকা মেয়েকে শ্লীলতাহানি ও নিগ্রহের চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর সাঁইথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হয়। আগামী ৭ ই সেপ্টেম্বর ফের পকসো আদালতে তোলা হবে বলে জানা যায়। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, আদালতে যাওয়ার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অরূপ মণ্ডল। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অভিযুক্ত নেতা বলেন, “পুরোটাই চক্রান্ত। আমি কোনো অপরাধ করিনি। দলের ভেতরের কিছু বিরোধী লবি এবং বাইরের কিছু লোক মিলে এটা করেছে।”
কারা তাঁর বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম না নিয়ে তিনি দাবি করেন, “তারা না বিজেপি, না তৃণমূল, না সিপিএম। বিভিন্ন দলের একটা মিশ্রণ রয়েছে—একটা ‘ককটেল গ্যাং’ বা ককটেল টিম সক্রিয়। আমি সেই ককটেল গ্যাংয়ের চক্রান্তের শিকার।”
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে অরূপ মণ্ডল জানান, তিনি নিজে কোনো ভিডিও ফুটেজ দেখেননি। ফলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এদিকে, অভিযুক্ত নেতার গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বোলপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, অরূপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠছিল। তাঁর দাবি, কাকতালীয়ভাবে শুক্রবারই অরূপ মণ্ডলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন ছিল। কিন্তু তার আগেই এই ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
নাবালিকাকে নিগ্রহ ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অভিযুক্তের দাবি অনুযায়ী এর পিছনে সত্যিই কোনো দলীয় কোন্দল বা তথাকথিত ‘ককটেল গ্যাং’-এর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, নাকি অভিযোগের পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্যই তিনি এই দাবি করছেন—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।