সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : তৃণমূলের হাত থেকে বিজেপির দখলে গেল খাতড়া ব্লকের দহলা পঞ্চায়েত। আজ খাতড়া ব্লকের দহলা পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনে সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপির সদস্যা মল্লিকা ডাঙ্গর প্রধান এবং ভাগবত দুলে উপপ্রধান নির্বাচিত হলেন। এখানে উল্লেখ্য ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দহলা গ্রাম পঞ্চায়েতে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মোট ১৮ আসনের মধ্যে তৃণমূল ৬টি, বিজেপি ৫টি, সিপিএম ৫টি এবং কুড়মি সমাজ সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা ২টি আসনে জয়ী হন।
ফলে ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে ছিল সব পক্ষই। বোর্ড গঠনের আগে বিজেপির টিকিটে জয়ী অসিত কুমার মাহাতো ও নিবেদিতা মণ্ডল তৎকালীন বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮। অন্যদিকে কুড়মি সমাজ সমর্থিত নির্দল সদস্যরা বোর্ড গঠনের ভোটে অংশ না নেওয়ায় বিরোধী শিবিরের সদস্য সংখ্যাও ছিল ৮ ফলে লটারির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচিত হন অসিত কুমার মাহাতো এবং সংরক্ষিত পদে উপপ্রধান হন নিবেদিতা মণ্ডল।
সম্প্রতি ঐ প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে একযোগে অনাস্থা প্রস্তাব আনে সমস্ত বিরোধী সদস্যরা। অনাস্থা গৃহীত হওয়ার পর তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।ব্লক প্রশাসন জানায়, এদিন সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপির মল্লিকা ডাঙ্গরকে প্রধান এবং ভাগবত দুলেকে উপপ্রধান নির্বাচিত করা হয়।
নবনির্বাচিত প্রধান ও উপপ্রধান জানান, মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা যাতে এলাকার সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পান, সেই বিষয়েই তাদের বিশেষ নজর থাকবে। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সৌরীশ মোহন বিষই বলেন, যাঁরা বিজেপির টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রধান ও উপপ্রধান হয়েছিলেন, তারা নিয়মিত পঞ্চায়েতে আসতেন না। তাই দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত গড়ার লক্ষ্যে সদস্যরা একজোট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। আগামী দিনে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পঞ্চায়েত পরিচালনাই আমাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধান অসিত কুমার মাহাতো এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তৃণমূলের জেলার এক নেতার দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যদের ভয় দেখিয়ে প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব বসিয়ে পঞ্চায়েত দখল করেছে।