সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : চার চাকার ভি আই পি কনভয় ছেড়ে মোটরবাইকে চড়ে হঠাৎ রাতের অন্ধকারে প্রত্যন্ত জঙ্গল মহলের গ্রামে হাজির হলেন জেলা শাসক, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মহকুমা প্রশাসন ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
সোমবার রাত্রিতে আচমকা গ্রামে এসে হাজির কয়েকটি মোটরবাইক ।আরোহী বাঁকুড়া জেলা শাসক অনীশ দাশগুপ্ত, বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ পাসুমাথী, খাতড়া মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য, খাতড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আক্তার আলী, সারেঙ্গা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তমাল সরকার, সারেঙ্গা থানার আইসি সুদীপ হাজরা সহ প্রশাসনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লকের জঙ্গল বেষ্টিত গ্রাম চুয়াগড়াতে প্রথম ঢোকেন তারা সেখানে গ্রামবাসীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাদের অভাব অভিযোগ জানতে চান। দীর্ঘক্ষণ এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা করেন। তারপর মোটরবাইকের কনভয় জামবনী গ্রামের দুর্গা মেলা প্রাঙ্গণে এসে হাজির হয়। এখানেও মাটির দাওয়ায় চাটাই পেতে বসে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলেন।
মানুষের অভাব অভিযোগ ও এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা ঠিকমত পৌঁছাচ্ছে কিনা তা জানতে চান। জামবনি গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সারেঙ্গা সরকারি বেসিক ট্রেনিং কলেজেরও প্রাক্তন অধ্যক্ষ সাধন মহান্তি বলেন আমরা অবাক হচ্ছি যে প্রশাসনের আধিকারিক বৃন্দ রাত্রিবেলায় মানুষের পরিষেবা সম্পর্কে জানতে গ্রামে এসে হাজির হয়েছেন এবং জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ আধিকারিক বৃন্দ প্রত্যন্ত গ্রামে এসে তারা গ্রামের মানুষের সাথে মাটিতে বসে আলাপ আলোচনা করছেন ।এলাকার উন্নয়ন কিভাবে হবে তাই নিয়ে। উন্নয়নের প্রশ্নে জেলা প্রশাসন এসে হাজির হয়েছেন গ্রামে।সারেঙ্গা ব্লকের নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরলেন আধিকারিক বৃন্দ।
, এদিন সন্ধ্যা থেকে সারেঙ্গা ব্লকের নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চুয়াগাড়া ও জামবনি গ্রামে বাইক নিয়ে হাজির হন এবং স্থানীয় মানুষ জনের সাথে মাটিতে বসে এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ ও দাবী দওয়ার কথা শোনেন। মূলত এলাকার মানুষজন রাস্তা ঘাট, পানীয়জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আই সি ডি এস, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি , বাল্যবিবাহ, স্কুল ছুট, সাইবার ক্রাইম এবং সেচের জলের সমস্যার কথা জানান। এদিনের এই সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বাঁকুড়া জেলা শাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন বাঁকুড়ায় বসে এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ, দাবী দওয়া জানা সম্ভব নয় তাই সারা দিনের কাজ শেষে রাত্রি বেলায় মানুষের দরজায় হাজির হয়েছি এবং সরেজমিনে তা দেখে যাচ্ছি যাতে তৃণমূল স্তর থেকেই এলাকার উন্নয়ন করা যায়।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এই ভূমিকায় খুশি এলাকার মানুষ জন। বিশিষ্ট শিক্ষক সঞ্জয় মাহাতো বলেন আমরা ভাবতেই পারছি না যে এরকম ভাবে এলাকার মানুষের সাথে প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে আলাপ আলোচনা করছেন। আমাদের কাছে এটা একটা স্বপ্নের মত। খুব ভালো লাগলো প্রশাসনের আধিকারিকদের আজকের বৈঠকে আলাপ-আলোচনা দেখে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্ব চঞ্চল পাত্র ,অরিজিৎ মহান্তি প্রমূখ।