দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬ : আলোচনার মূল বিষয়গুলি কী কী ?
নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্রিকস (BRICS) হলো বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর একটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ফোরাম। ইতিমধ্যে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সর্বসম্মতভাবে 'নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬' গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে BRICS -র প্রধান লক্ষ্য বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা বাড়ানো এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য সহযোগিতা করা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রিকসের ‘আরও বিস্তৃত পরিসর ও বড় লক্ষ্য’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে। সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে ভারত এবারের সম্মেলনের আলোচনার চারটি স্তম্ভ হিসেবে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেছে | এই অধিবেশনে আলোচনার কেন্দ্রে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে তা হল -
*মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে লাগাম টানার আহ্বান*
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে লাগাম টানার আহ্বান জানিয়ে ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত | যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্ত বজায় রাখার আহ্বানের পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ সচল রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
*অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা*
বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পায়ন ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাহ্যিক অভিঘাত থেকে প্রবৃদ্ধিকে সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট ব্রিকস দেশগুলির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা মানেই হল অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা |
*পশ্চিমা আধিপত্য বনাম অর্থনৈতিক মঞ্চ*
ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন, চীনের অর্থনৈতিক উত্থান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত ব্রিকসকে আবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। বিশ্বের বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে কী ভাবছে, ব্রিকস তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।
*সদস্য দেশের সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব*
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী এই জোটের পরিধি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে। ব্রাজিল ও ভারত সম্প্রসারণের জন্য কিছু নিয়ম তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, নতুন সদস্যদের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করতে হবে।