মোল্লা জসিমউদ্দিন, রবিবার টালিগঞ্জে বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় পৌঁছয় বুলডোজার। অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই তৈরি হয়েছিল একটি নির্মাণ। যা একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হত।সেটি ভাঙতে প্রশাসনের অভিযান শুরু হতেই স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। এদিন সকালেই বুলডোজার নিয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। জরুরি শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওই নির্মাণ ভাঙা যাবে না।
জানা গেছে, সাহেববাগান এলাকার ওই নির্মাণকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পুরনিগমের দাবি, বাড়িটি তৈরির জন্য কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই নির্মাণটিকে বেআইনি ঘোষণা করে তা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এরপর রবিবার সকালে উচ্ছেদ ও ভাঙার প্রস্তুতি শুরু করে প্রশাসন। অভিযোগ, অতীতে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় চলত। প্রশাসনের দাবি, বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই জমি পুনরুদ্ধারের জন্যই আইনি প্রক্রিয়া মেনে অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন।
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন আগে সেখানে তৃণমূলের দলীয় কাজকর্ম থাকলেও বর্তমানে বেশ কয়েকটি পরিবার ওই বাড়িতে বসবাস করছে। এরফলে হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলি আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। আগাম যথাযথ নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্মাণ ভাঙার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় বুলডোজারও। স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এদিকে ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার আগেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট পক্ষ। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হয়। পুরনিগম এবং মামলাকারীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিল্ডিং ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে মালিককে। জানা গিয়েছে, আদালত মামলাকারী অনিতা দাসকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাঁদের বাড়ির সমস্ত বৈধ নথিপত্র নিয়ে পুরসভার বিল্ডিং ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে হবে। এরপরেই হবে পুরসভার পদক্ষেপ। ট্রাইব্যুনালে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ির স্বপক্ষে সঠিক ও বৈধ নথি পেশ করতে ব্যর্থ হন মামলাকারীরা, তবেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে পুরসভা নিজের মতো করে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে।হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ভাঙার নোটিসের উপর ৩০ দিনের সময় দেওয়া উচিত ছিল পুরসভার। গত সপ্তাহে নির্মাণ ভাঙার উপর নোটিস দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীকে কোনও সুযোগ না দিয়ে মাত্র তিন দিনের মাথায় কোনও নির্মাণ ভাঙা আইনের চোখে শোভন নয়।
রাজ্যের উচ্চ আদালত জানায়, ওই নির্মাণ 'বেআইনি' কি না, সে বিষয়ে আদালত কোনও মন্তব্য করবে না। কিন্তু কোনও ব্যক্তিকে আইনি সুযোগ দেওয়া উচিত। গত শুক্রবার কলকাতা পুরসভার তরফে এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ভাঙার যে নোটিস দিয়েছিলেন আদালত তা খারিজ করে দেয়। রবিবার বিচারপতি বসুচৌধুরীর বিশেষ বেঞ্চ জানায়, মামলাকারীকে ৩০ দিনের সময় দিতে হবে।