মোল্লা জসিমউদ্দিন, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে যে, -'জনগণনায় শিক্ষকদের ডিউটি হলে তা অন ডিউটি হিসেবে গ্রাহ্য হবে'। রাজ্যের সব শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য হবে নির্দেশ। প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি মাত্রার সব শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য প্রযোজ্য হবে এই রায়।এই সম্পর্কিত সমস্ত মামলার নিষ্পত্তি করে জানাল হাইকোর্টেরসিঙ্গেল বেঞ্চ।এরই সঙ্গে জনগণনার ডিউটি করলে ক্লাস নয় শিক্ষকদের, এদিন নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
সেনসাস কতৃপক্ষ জনগণনার কাজের জন্য প্রযোজনীয় সাহায্য চেয়ে স্কুল প্রধানের কাছে আবেদন করবে। সেনসাস কতৃপক্ষের আবেদন মেনে শিক্ষকদের কাজে নিযুক্ত করবে স্কুল প্রধান, ক্লাসের শিক্ষাদানে সমস্যা না হয় সেইভাবে ডিউটি সাজাবে স্কুলের প্রধানশিক্ষক। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছিল, -'স্কুলের সময়েই করা যাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনগণনার কাজ'। শিক্ষকদের বড়সড় স্বস্তি দিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায় রাজ্য। জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের সপ্তাহান্তে জনগণনার কাজে পাঠানোর যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
গত ১৬ অগাস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। স্কুল শিক্ষকদের ওই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল, স্কুলে পড়ুয়াদের দেখভালের পর সপ্তাহান্তে কিংবা ছুটির দিনগুলিতে জনগণনার কাজ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিরোধিতার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের অবস্থানের মধ্যে চরম সমন্বয়ের অভাব দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি। রাজ্যের দাবি, স্কুলের সময়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা জনগণনার কাজ করলে তাতে পঠনপাঠন ব্যাহত হবে। তবে কেন্দ্র সেই দাবির বিরোধিতা করে।
উল্লেখ্য, পুরনো বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নতুন যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর, যাতে জনগণনার কাজও শিক্ষকরা অন ডিউটি হিসাবে ধরতে পারেন। যদিও স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফ থেকে আগেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষকদের এমনভাবে ব্যবহার করুন যাতে কোনওভাবেই পড়াশোনা ব্যাহত না হয়।রাজ্য সরকারে প্রথম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল যে, 'জনগণনার কাজ করতে গিয়ে স্কুলের পঠনপাঠন যেন বিঘ্নিত না হয়। স্কুলের সময়ের পর অথবা সপ্তাহান্তে সেন্সাসের কাজ করতে পারবে।' এই নির্দেশিকা নিয়ে আগেই ওঠে প্রশ্ন।
সেনসাসে শিক্ষকদের ব্যবহার এদিন রাজ্যের উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিযুক্ত করতে হলে আগে থেকে দিন-সময় এবং জায়গা সম্পর্কে জানাতে হবে। স্কুলের পঠন পঠন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা করবেন প্রধান শিক্ষক।