সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম: বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের গোহালিয়ারা উদয়ন সংঘ ফুটবল ময়দানে শনিবার, ২২ আগস্ট, বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী শ্রীকৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা ও সাত দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে একই মঞ্চে কৃষকদের সচেতন করতে আয়োজন করা হয় বিশেষ কৃষি উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা সচেতনতা শিবিরের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি আধিকারিক, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাষীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিন কৃষিমন্ত্রী ফিতে কেটে রামলালা, রাধাকৃষ্ণ-সহ বিভিন্ন মূর্তির উন্মোচন করেন। পরে মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ঝুলনযাত্রা ও মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
সচেতনতা শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের প্রথাগত চাষাবাদের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উন্নতমানের বীজ, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
খরাপ্রবণ এলাকায় ধান চাষের বিকল্প হিসেবে সুগন্ধি ধান ও কম জলে চাষ করা যায় এমন খরা সহনশীল ফসল উৎপাদনের ওপরও জোর দেন কৃষিমন্ত্রী। পাশাপাশি জল সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারের জন্য বিন্দু সেচ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
অনিশ্চিত আবহাওয়া, খরা, অতিবৃষ্টি-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কৃষকদের বীমার আওতায় আসার সুবিধা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয়। কৃষিমন্ত্রী বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে সমৃদ্ধ হবে বাংলা।” প্রতিটি কৃষক পরিবারকে ফসল বীমার আওতায় এনে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
একদিকে ঝুলনযাত্রা ও গ্রামীণ মেলার সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক আবহ, অন্যদিকে কৃষকদের উন্নত চাষাবাদ ও ফসল বীমা নিয়ে সচেতনতা—দুইয়ের মেলবন্ধনে এদিনের অনুষ্ঠান বিশেষ মাত্রা পায়। উদ্যোগটি এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।