সাধন মন্ডল, বাঁকুড়া : মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর এক সদস্যা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠল রানিবাঁধ ব্লকের অম্বিকানগর পঞ্চায়েতের ঠুঁটাশোল গ্রামে। ঠুঁটাশোল মা মনসা গ্রুপের সভানেত্রী উত্তরা মাহাতো (৪২) বুধবার বিষ খান। প্রথমে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ও পরে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজে তার চিকিৎসা চলছিল।বাঁকুড়া মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার বিকেলে তাঁর দেহ গ্রামে এলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। দেহ রাস্তায় রেখে অম্বিকানগর-রুদড়া রাস্তায়, ঠুঁটাশোল মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তাদের দাবি , ব্যাঙ্ক ঋণের কিস্তির টাকা কাটা বন্ধ না করলে তাঁদের অনেকেই এই পথ বেছে নিতে হবে। তাঁরা আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলে রাতে অবরোধ ওঠে।
অবরোধকারী মহিলাদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অম্বিকানগর পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের একটি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পরে ধাপে ধাপে তাঁদের থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তৎকালীন কমিউনিটি সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএসপি) পদে থাকা মল্লিকা কর্মকার। তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ঋণ সংক্রান্ত কাজের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, ঋণ মঞ্জুর হওয়ার পরে কখনও বেশি সুদের প্রলোভন দেখিয়ে, কখনও নানা অজুহাতে বা ভুল বুঝিয়ে গোষ্ঠীর সদস্যাদের কাছ থেকে ঋণের টাকা নিয়ে নিতেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলালী মাহাতো, বিশাখা মাহাতো রা বলেন, ‘‘ঠুঁটাশোল মা মনসা গ্রুপ থেকেই তিন লক্ষ আশি হাজার টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। এখন গ্রুপের সদস্যাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণের কিস্তি ও সুদ কাটা শুরু হয়েছে অথচ এই ঋণের টাকা তারা হাতে পায়নি।এই মানসিক চাপই উত্তরার মৃত্যুর কারণ।’’ গ্রামবাসী রঞ্জিত মাহাতোর অভিযোগ, ‘‘ঋণের টাকা কীভাবে শোধ হবে, সেই চিন্তায় উত্তরা রাতে ঘুমোতে পারত না। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও ব্যাঙ্ক কেটে নিচ্ছিল। এই মানসিক চাপেই ওকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এত বড় আর্থিক দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত চাই।’’
এর আগেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও টাকা ফেরতের দাবিতে রানিবাঁধ থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন গোষ্ঠীর সদস্যারা। সম্প্রতি মুকুটমণিপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাতেও তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে এসেছিলেন। স্থানীয় মহিলা তুলসীরানি ধীবর, ঝুনু মাহাতো বলেন, ‘‘পুলিশ, ব্লক প্রশাসন, মন্ত্রী সব জায়গায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনও ব্যাঙ্ক থেকে কিস্তির টাকা কাটা বন্ধ হয়নি। আমাদের ঋণ মুকুব করতে হবে। তা না হলে আরও মহিলার প্রাণ যেতে পারে।’’ অভিযুক্ত মল্লিকাকে ইতিপূর্বেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের ব্যবস্থাও করতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের কিস্তি কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রানীবাঁধ থানা পুলিশ পুলিশ বিষয়টি নজরে রেখেছেন বলে জানা যায়।