সঞ্জয় কুমার দোলুই : দীর্ঘ ১৮ বছর পর কলকাতায় আসছেন কবি/সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। বাংলায় সরকার পালাবদলের পর তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন উঠতে চলছে। বামফ্রন্ট জমানায় কলকাতা থেকে নির্বাসিত তারপর তৃনমূল জমানাতেও যেন অলিখিত নির্বাসন তসলিমা নাসরিনের। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার কলকাতায় আসার পালা তসলিমা নাসরিনের। বহু দিনের নির্বাসনের যন্ত্রণা কবির এবার নিরসন হতে চলছে। বাংলা ভাষার জন্য বার বার প্রাণ কাঁদে কবির, জন্মভূমি জন্য ডুকরে কেঁদে ওঠেন। কলকাতা কবির প্রাণ, বাংলা ভাষা কবির আত্মা সেই নারীর টানেই মহানগরী তিলোত্তমায় আসছেন ১লা আগস্ট শনিবার রবীন্দ্র সদনে আসছেন তসলিমা নাসরিনের গানে কবিতায় মুখরিত হবে প্রাঙ্গণ। ঐদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে আয়োজকদের কাছ থেকে।
কলকাতায় রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে "সেক্যুলার মিশন" আরও দুই একটি নাগরিক সংগঠন। সেক্যুলার মিশনের আয়োজক কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, "দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন। সকল প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পরাস্ত করে তিনি আসছেন। আমরা তাঁর সংগ্রামের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকবো।" আর এক আয়োজক মোহিত রায়, "তসলিমার এই রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে তো কোনও আইনি বাধা নেই"। তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কোন রাজনীতি নেই। তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে অনুষ্ঠান।
তসলিমা নাসরিনের উপন্যাস লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, ২০০৭ সালে দ্বিখণ্ডিত উপন্যাসের জন্য উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ সেখান থেকে বিতারিত হয় তসলিমা নাসরিন চলে আসেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা। কলকাতা তেও ২০০৭ সালে উত্তাল হয়ে ওঠে একাংশ তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা নামাতে হয়। তৎকালীন রাজ্যসরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বামফ্রন্ট সরকার তসলিমা নাসরিনের দ্বিখণ্ডিত বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং কলকাতা ছাড়তে বলেন তসলিমা নাসরিন কে। সেই দিন তসলিমা নাসরিন রাতারাতি কলকাতা ছেড়ে দিল্লি বসবাস করেন পরে সেখান থেকে বিদেশে পাড়ি দেয়। সেই দিন থেকে ১৮ বছর পর আবার ফিরতে চলেছে কলকাতায় তসলিমা নাসরিন। কবির আগমনের আশায় দিন গুনছে শতশত পাঠক ও নাগরিক সমাজ।