রুদ্র বিশ্বাস, বনগাঁ: শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রের চালু করা APAAR ID প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, সরকার যখন এই প্রকল্পকে স্বেচ্ছাসেবী বলে দাবি করছে, তখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্থেই এতে অংশগ্রহণ করা বা না করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। জোর করে কোনও শিক্ষার্থীকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা যাবে না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ। শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া APAAR ID-এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল শিক্ষাগত পরিচয় তৈরি করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল, মার্কশিট, সার্টিফিকেট, একাডেমিক সাফল্যসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত নথি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে স্কুল, কলেজ এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকেই একাংশ অভিভাবকের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান APAAR ID-কে কার্যত বাধ্যতামূলক করে তুলছে, যদিও সরকার একে স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরছে। এছাড়া আধারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার কারণে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে আলাদা আইন ছাড়াই শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশে এই প্রকল্প চালু করা নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। এর আগে ওড়িশা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, APAAR ID যদি স্বেচ্ছাসেবী হয়, তাহলে অভিভাবকদের জন্য স্পষ্টভাবে অপট আউটের সুযোগ রাখতে হবে। পাশাপাশি কোনও শিক্ষার্থী APAAR ID না করালেও তার পড়াশোনা, পরীক্ষা বা অন্য কোনও শিক্ষাগত সুবিধায় বাধা সৃষ্টি করা যাবে না বলেও আদালত জানিয়েছিল।
সাম্প্রতিক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ওড়িশা হাইকোর্টের নির্দেশগুলি জাতীয় স্তরে কার্যকর করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হবে। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, যেহেতু ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সরকার আপত্তি জানায়নি, তাই তা বৃহত্তর পরিসরে প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।