রুদ্র বিশ্বাস, বনগাঁ: এবার রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল ব্যবস্থা নিয়ে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাজেট ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল, কলকাতা পুরসভার অধীনে থাকা বিভিন্ন স্কুলে মিড ডে মিল বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। এরপর থেকেই পড়ুয়াদের খাবারের মান এবং মেনুতে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব। জানানো হয়, কলকাতাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মিড ডে মিল প্রকল্পে ইসকন যুক্ত হচ্ছে এবং আগামী ১ আগস্ট থেকে তারা খাবার বিতরণের কাজ শুরু করবে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য উন্নত মানের খাবার সরবরাহের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ডিম নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও কিছুদিন আলোচনা চলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ফলে নতুন ব্যবস্থায় ডিমের স্থান থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও কৌতূহল বজায় রয়েছে।এর আগে গত ২২ জুন এক সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে কলকাতার মিড ডে মিল পরিষেবার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল খাতে মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করার কথাও ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, ১ আগস্ট থেকে পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের রান্নার খরচের বরাদ্দও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ ও মান আরও উন্নত হবে। শুধু স্কুল নয়, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও খাবারের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য দৈনিক খাদ্য ব্যয় ৫৬.৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে রোগীরা আরও উন্নত ও সুষম খাদ্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।