শুভদীপ মন্ডল, বাঁকুড়া: রাইপুরের প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরানো চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামের মা মহামায়া । এখানে মা মহামায়া দুর্গা রূপে পূজিতা হন সপ্তমী অষ্টমী নবমী ও দশমী। সেই মা মহামায়া সর্বজনীন পূজা কমিটির বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো আজ রাইপুর গ্রামীন গ্রন্থাগারে। উপস্থিত ছিলেন গড় রাইপুরের হরিহর গঞ্জগড়ের রাজা গোপীনাথ সিংদেব, হরিপদ সিংদেব। যদিও এখন তাদের কোন রাজত্ব নেই রাজসিংহাসনও নেই আর সেই রাজপ্রাসাদ ও নেই কোনরকমে দিনযাপন করছেন রাজ পরিবার। তাদের প্রাচীন ঘরগুলির ভগ্না দশা। কিন্তু রাজ সম্মান আজও অটুট রয়েছে।

তাই সেই রাজবাড়ীর বয়স জ্যৈষ্ঠ বর্তমান রাজা, গোপীনাথ সিংহ দেব কে সভাপতি , সুভাষ ডাঙ্গর কে সম্পাদক ও শুভাশিস রজক কে কোষাধক্ষ করে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হল যারা এই সার্বজনীন মা মহামায়া দুর্গা পুজো দেখভাল করবেন ও যাদের দ্বারা এই পূজা পরিচালিত হবে। এদিনের এই সভাতে দূর্গা পূজা উপলক্ষে হরিহর গঞ্জগড় রাজ বাড়ির মন্দির থেকে মা রাজলক্ষ্মীকে ষষ্ঠীর দিন নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে চাঁন্দু ডাঙ্গা গ্রামে মা মহামায়াবন্দিরে নিয়ে আসা হয় এই মারাজলক্ষ্মী এখানে দুর্গা রূপে পুজো পান চার দিন। দশমীর দিন আবার শোভাযাত্রা সহকারে নাম সংকীর্তন এর মধ্য দিয়ে মাকে রাজবাড়ীর মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। উল্লেখ্য এই হরিহর গঞ্জগরের রাজবাড়ীতেই মা সারাবছর পূজিতা হন। এদিনের সভায় মা রাজলক্ষ্মীর আসা ও যাওয়ার শোভাযাত্রা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয় এছাড়া চার দিন ধরে যে দুর্গাপূজা উৎসব উদযাপিত হবে এবং দশমীর দিন নরনারায়ন সেবার যে আয়োজন করা হচ্ছে তানিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়।

এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে পুজো কমিটির সভাপতি গোপীনাথ সিংহদেব, সম্পাদক সুভাষ ডাঙ্গর ,কোষাধক্ষ্য শুভাশিস রজক ছাড়াও আর যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রঞ্জিত মিশ্র, শক্তিপদ মহাপাত্র, বিশ্বজিত বাঙাল, সুদেব পাতর, অশোক কাহার, সাধন মন্ডল, , উত্তম দুলে, ফটিক রজক উজ্বল মন্ডল। রুনু রায়, অশ্বিনী মহাপাত্র। মুচি রাম দুলে বাহাদুর পাল, রবি দুলে বুদ্ধদেব বিশাল, অনন্ত গরাই, পূজন রজক প্রমূখ। সকলেই পূজাকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করতে আজ থেকে রশিদ বই নিয়ে দান সংগ্রহে নেমে পড়লেন।