সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম: আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে লোকপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও থানায় ডেপুটেশন দেওয়া হয় জাতীয় কংগ্রেসের খয়রাসোল ব্লক কমিটির পক্ষ থেকে। শনিবার সন্ধ্যায় লোকপুর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার-সহ বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে মিছিলটি লোকপুর থানার সামনে পৌঁছায়। সেখানে বিক্ষোভ সভার পর থানায় স্মারকলিপি জমা দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
কংগ্রেস সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মিলন প্রধান মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর একটি পুরনো মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন লোকপুরে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতি ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বিদ্যুৎ বিল-সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক অনুপ কুমার সাহার বিরুদ্ধেও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপির বিভিন্ন নীতিরও সমালোচনা করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি।
এদিনের কর্মসূচিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক জোট ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। সভা শেষে জেলা কংগ্রেসের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল লোকপুর থানায় গিয়ে মিলন প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেয়। প্রতিনিধি দলে জেলা কংগ্রেসের নেতৃত্ব হিসেবে ছিলেন সন্তোষ ঘোষ ও দীলিপ রায়,জেলা কংগ্রেস সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আব্দুল নাঈম এবং খয়রাশোল ব্লক কংগ্রেস সভাপতি জাকির খান।
কংগ্রেসের দাবি, থানার মাধ্যমে তাঁদের দাবির বিষয়টি রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় কুড়ি বছর পর লোকপুরের মাটিতে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ধরনের মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হল। কর্মসূচি শেষে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী একান্ত সাক্ষাৎকারে এদিনের কর্মসূচি ও দলের দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন।